প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকার সমালোচনায় বীণা সিক্রি

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকার সমালোচনায় বীণা সিক্রি
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করায় বাংলাদেশের সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি। ঢাকার এমন অবস্থানকে তিনি ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, প্রত্যর্পণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। তাই এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরকে যুক্ত করা অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ঢাকার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সমালোচনা করে সিক্রি বলেন, বক্তব্যটি অত্যন্ত কঠোর এবং এমন প্রকাশ্য মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়।

আরও পড়ুনঃ ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ, আপিল বিভাগে আবেদন

তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে। বাংলাদেশ সরকার সফর বাতিলের কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিক্রির ভাষ্য, সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে যুক্ত করার চেষ্টা বিস্ময়কর। তার মতে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

তারেকের ভারত সফর নিয়ে সময়ের চাপ

সাবেক এই কূটনীতিকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দফা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথম আমন্ত্রণটি ছিল দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য।

সিক্রির মতে, তখন ধারণা করা হয়েছিল তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ভারত দিয়ে শুরু হতে পারে। কিন্তু সেটি হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সফর নিয়ে বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারত থেকে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই আমন্ত্রণেরও সাড়া মেলেনি বলে দাবি করেন সিক্রি।

তার মতে, এখন তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য সময়ের সুযোগ সীমিত। ফলে সফরকে অন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা কূটনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়।

আরও পড়ুনঃ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, নিশ্চিত জয়ের পথে মির্জা ফখরুল

‘প্রত্যর্পণ কয়েক বছরও সময় নিতে পারে’

বীণা সিক্রি বলেন, প্রত্যর্পণ কোনো রাজনৈতিক সফরের তাৎক্ষণিক শর্ত নয়; এটি একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। তার মতে, এ ধরনের প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছরও সময় লাগতে পারে এবং বিভিন্ন দেশে প্রত্যর্পণের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার নজির রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে কি সে কারণে তারেক রহমান আগামী কয়েক বছর ভারত সফর করবেন না?

সিক্রির মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে যুক্ত করার দাবি অপ্রয়োজনীয় এবং কূটনৈতিকভাবে অনুপযুক্ত।

ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিমও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের কথা জানিয়েছেন।

তবে এখন পর্যন্ত সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি। সফর হলে এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হবে।

এদিকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের হস্তান্তরের অনুরোধও জানিয়েছে ঢাকা।

শেখ হাসিনার দিল্লির অনুষ্ঠানে ভারতের অবস্থান

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করেও ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছিল এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গেও ভারত সরকার একমত নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

ফলে একদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের চাপ এবং অন্যদিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর—দুই ইস্যু ঘিরেই ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।