মাদারীপুরে নদ-নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহারে সংকট দেখা দিয়েছে দেশিয় মাছের। নেই তেমন কোন সরবরাহ। সাগরের মাছ ও ইলিশের আমদানি বেশি। দামও বেশ চড়া।
জানা জায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে জমজমাট শহরের পুরাণ বাজার পাইকারী মাছের আড়ত। দুরদুরন্তরের পাইকার ও ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে ছুটে আসছেন এখানে।
আড়তে নেই পুকুর, জলাশয় ও বিলের মাছ। কুয়াকাটা থেকে আসা সাগরের মাছের সরবরাহ রয়েছে আড়তে। পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ মাছও। এই সুযোগে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। বাজার নিয়ন্ত্রন না থাকায় মাছের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
শুক্রবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি চিংড়ি পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। ইলিশের কেজি দেড় হাজার থেকে শুরু করে ঠেকেছে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশিয় মাছ যা আছে তারও দাম চড়া। এক হাজার টাকার উপড়ে কেজিতে কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেই ক্ষুব্ধ ক্রেতা।
অবশ্য পরিবহন খরচ বেশি আর আমদানি কম হওয়ায় মাছে দাম বেড়েছে বলে দাবি আড়ৎদার সমিতির নেতাদের। তানিয়া আক্তার নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি সপ্তাহে একদিন মাছ কিনতে বাজারে আসি। কিন্তু দাম কখনই কমেনা। আমরা চাই মাছের বাজার ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখুক। তাহলে পরিবার নিয়ে নিয়মিত মাছ খেতে পারবো। নতুবা শাকসবজি আর ডিম’ই একমাত্র ভরসা
হবে।’
আরে ক্রেতা আনোয়ার সরদার বলেন, ‘বাজার দেশি মাছ নেই। অন্যমাছের দাম আগুন। পছন্দের মাছ কিনে ক্ষেতে পারছি না।’ মাদারীপুর পুরাণ বাজার মৎস আড়ৎদার সমিতির নেতা প্রাণ কৃষ্ণ মালো বলেন, ‘বাজার দেশি মাছ নেই। অন্য মাছের সরবরাহ থাকলে দাম কিছুটা বেড়েছে। অনেক দূর থেকে মাছ আসায় পরিবহন খরচ বেশি, তাই কিছুটা দাম বেড়েছে।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মৎস কর্মকর্তারও মনিটরিং করছেন। যাতে কোন ব্যবসায়ী মাছের দাম বৃদ্ধি করতে না পারে।’



