পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান
চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতি

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দল-মত ও সম্প্রদায়ের বিভাজন ভুলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্রথম সরকারি সফর উপলক্ষে আয়োজিত ধারাবাহিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দিনব্যাপী সফরে মন্ত্রী উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

সীমান্ত নিরাপত্তায় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

নাইক্ষ্যংছড়ির ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে সাচিং প্রু বলেন, সীমান্তবর্তী এ উপজেলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার আহ্বান

পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সামাজিক সৌহার্দ্য অটুট রাখা জরুরি।

সরকারের লক্ষ্য হলো উন্নয়নের সুফল সব নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

চোরাচালান দমনে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায়ও অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী।

সভায় তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালান দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় ১১ বিজিবি (নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন)-এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী তাঁর সফরে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

পিআইডি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।