ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বন্ধে পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বন্ধে পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বন্ধে পদক্ষেপ

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্ব, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ফিলিস্তিন প্রশ্ন’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভূমি দখল, সহিংসতা এবং ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট পরিপন্থী।

রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অচলাবস্থা ইসরায়েলকে জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতির অবসানে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি সংযুক্তিকরণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের পাশাপাশি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে সংস্থাটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং দখলদারত্বের নিন্দা জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। লেবাননে জাতিসংঘের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলায় বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীসহ বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান রাষ্ট্রদূত।

বক্তব্যে শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।