ণিক বিশ্বাসে শ্রীগণেশকে বলা হয় ‘বিঘ্নহর্তা’—যিনি জীবনের সমস্ত বাধা ও সংকট দূর করেন। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার পুত্তলুরু অঞ্চলে গণেশ চতুর্থীর প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা স্থানীয় অধিবাসীদের সেই বিশ্বাসকে নতুন করে জোরদার করেছে। দীর্ঘদিনের তীব্র খরা ও জলসংকটে ভুগতে থাকা এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের পরপরই আকস্মিক ও মুষলধারে বৃষ্টিতে জল ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী চিত্রাবতী নদী।
শুকনো বালিতে প্রতিমা রেখে ফিরেছিলেন ভক্তেরা
অনন্তপুর জেলার পুত্তলুরু অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে চরম খরা ও ভূগর্ভস্থ জলের তীব্র সংকটে জর্জরিত ছিল। গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে মহা সমারোহে পূজা উদযাপিত হলেও উৎসবের শেষে ঘটলো বিপত্তি। প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য স্থানীয় চিত্রাবতী নদীতে একফোঁটাও জল ছিল না। নদীটি সম্পূৰ্ণ শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়েছিল।
অন্য কোনো উপায় না পেয়ে এবং ধর্মীয় আচার রক্ষার্থে ভক্তেরা অশ্রুসজল চোখে গণেশ ঠাকুরের মূর্তিগুলো শুকনো নদীর বালির ওপর রেখেই বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন। সঠিক নিয়ম মেনে জলে বিসর্জন দিতে না পারায় ভক্তদের মনে চরম উৎকণ্ঠা ও আক্ষেপ বিরাজ করছিল।
হঠাৎ অলৌকিক বৃষ্টি: উপচে পড়লো চিত্রাবতী নদী
তবে সেই হতাশা স্থায়ী হয়নি বেশি সময়। প্রতিমা বালিতে রেখে আসার ঠিক পরদিনই ওই অঞ্চলে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তিত হয় এবং শুরু হয় অতি ভারী বর্ষণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা মুষলধারার বৃষ্টিতে শুকনো চিত্রাবতী নদী দ্রুত জলে কানায় কানায় ভরে ওঠে।
নদীর জলের প্রবল স্রোতে বালিতে রেখে আসা গণেশ মূর্তিগুলো সসম্মানে ভেসে যায় এবং ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়। কেবল বিসর্জনের ধর্মীয় আকুলতাই পূর্ণ হয়নি, এই হঠাৎ বৃষ্টিতে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘদিনের তীব্র খরা ও জলের সংকট নিমিষেই দূর হয়ে যায়।
এলাকা জুড়ে ভক্তিরোমাঞ্চ ও স্বস্তি
ঘটনার আকস্মিকতায় ও নদীতে জল ফিরে আসায় পুত্তলুরু অঞ্চলে বইছে খুশির আমেজ। গণেশের কৃপাতেই এই খরা কেটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভক্তরা। তাঁদের মতে, পৌরাণিক বিশ্বাস যে কেবল গল্পের কথা নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের ওপর আস্থা রাখলে বাধা দূর হয়—এ ঘটনা তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।
পৌরাণিক মতে, শ্রীগণেশ হলেন জ্ঞান, বুদ্ধি ও সব শুভ কাজের অগ্রপূজ্য দেবতা। যেকোনো মাঙ্গলিক কাজের সূচনাতেই তাঁর আবাহন করা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের পুত্তলুরুর এই ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছে কেবল একটি প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত নয়, বরং ‘বিঘ্নহর্তা’ নামের এক পরম সত্যের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে।





