মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংঘাত এড়াতে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে জোটভুক্ত ১১টি দেশের নেতারা।
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে (শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর) চীন, রাশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায়।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে সংঘাত বাড়াতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
পাশাপাশি বেসামরিক সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও নৌ চলাচলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে ব্রিকস নেতারা বলেন, “বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তাই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহতার দিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখতে হবে।”
সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় থাকা যেকোনো পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণের কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে।
নেতারা উল্লেখ করেন, “যুদ্ধের পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষ ও পরিবেশকে সুরক্ষার স্বার্থে পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখতে হবে। বেসামরিক অবকাঠামো এবং আইএইএ’র নজরদারিতে থাকা শান্তিপূর্ণ স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা স্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”
এছাড়া গাজা, লেবানন, সুদান ও সিরিয়ার সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্ব যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য থাকায় যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে এবারের সম্মেলনে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে সফল কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।



