বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে জাপানি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে টোকিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Bangladesh Healthcare Business Seminar’। বাংলাদেশ দূতাবাস, Japan International Cooperation Agency (JICA) এবং Japan External Trade Organization (JETRO)-এর যৌথ উদ্যোগে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে জাপানের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভবিষ্যৎ উপযোগী ও টেকসই করতে জাপানের সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জাপানি বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের অন্যতম। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে JICA ও জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৭ কোটির বেশি মানুষের বাংলাদেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক হাসপাতাল, রোগনির্ণয় প্রযুক্তি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার আরও সুযোগ রয়েছে।
জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ও সেবাখাতে নার্স এবং কেয়ারগিভারের চাহিদা পূরণেও প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশে ওষুধ শিল্প, বায়োটেকনোলজি, ভ্যাকসিন এবং অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (API) উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।
সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস পৃথক দুটি উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।
এ সময় JICA-এর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক তেতসুয়া ইয়ামাদা এবং দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ-৪-এর উপপরিচালক হিরোকি সাসাকি বাংলাদেশ ও জাপানের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
JETRO-এর সিনিয়র ডিরেক্টর ফর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি (সাউথ ওয়েস্ট এশিয়া) ইউজি আন্দো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে Euglena Co., Ltd.-এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নাও নিত্তা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সেমিনারের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।





