জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই দলের কিছু নেতার আচরণে এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে আরও কঠোর রাজনৈতিক আচরণের আশঙ্কা তৈরি করছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশের মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, জাতীয় সংসদে দলটির এমপিদের কার্যক্রমেও দেশ পরিচালনার সক্ষমতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
জামায়াতের নেতাকর্মীদের আরও প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ এই মুহূর্তে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিবর্তে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ প্রত্যাশা করছে।
রাশেদ খান আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শক্তি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা প্রয়োজন। তবে জামায়াত ও এনসিপির কর্মকাণ্ডে সেই সমন্বয়ের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর অভিযোগ, কিছু দল ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা বললেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করছে না। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহারের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাও বক্তব্যে তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে গাজী নজরুলকে ঘিরে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন; মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
রাশেদ খান বিএনপির অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দলটি বিভিন্ন সময়ে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্যেও রাজপথে ছিল। একই সময়ে জামায়াতের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন।
জামায়াতের বিভিন্ন নেতা ও মনোনীত প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের মতো বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা এবং পারস্পরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করা।




