মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়ানো, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
আজ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগ ও জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় করলে উৎপাদন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এই দুই খাতকে আরও রপ্তানিমুখী করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এজন্য খামারি, উৎপাদক, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ও কমাতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
মৎস্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত খামার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সম্ভব। আর প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খামারে প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে খামারের পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত খাদ্য ব্যবহারের বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে হবে।
তিনি জানান, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। এখন দেশে উৎপাদিত মাংসের রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অবকাঠামো আরও উন্নত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ বাড়বে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ১৩টি মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এসব সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মাংসের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে খামারিরা ঋণ, উৎপাদন উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ফলে তারা আরও কার্যকরভাবে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





