৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রায় ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আত্মসাত ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহারে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও অ্যারামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুকমীলা জামানসহ ব্যাংক ও অ্যারামিট সিমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ্যারামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে বিভিন্ন ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন অ্যারামিট গ্রুপের কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানটির এজিএম (হিসাব) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়।

এ ছাড়া ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামে একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে কাগজপত্রে দেখানো হয়। দুদকের অভিযোগ, বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ না করেই ভুয়া বিল ও জাল ইনভয়েস তৈরি করে তা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

এভাবে ইসলামী ব্যাংক, জুবলী রোড শাখা, চট্টগ্রাম থেকে ২৭টি মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে মোট ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া ও আত্মসাৎ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তা মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মহিউদ্দীন ও মোহাম্মদ আখতার হোসেন, ইনভেস্টমেন্ট ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. আব্দুল কাদির ও মো. শহিদুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল হক, এফভিপি ও ম্যানেজার অপারেশন মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি আবুল কালাম আজাদ ও মোহাম্মদ মহসীন আলী, ব্যাংকটির এসপিও রিদুয়ানুল হক এবং অ্যারামিট সিমেন্টের এজিএম (হিসাব) একেএম মারুফসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে শুরুতে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স কাজ করে। পরে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্ত দল এরই মধ্যে ৩০টির বেশি মামলা করেছে বলে জানা গেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

বিশেষ প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।