বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে জ্বালানিবাহী গাড়িবহর। তিনটি বিশেষ লরিতে করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য আনা ইউরেনিয়াম নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স/সিকিউরিটি সংশ্লিষ্ট সদস্য, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জের লড়াই: বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিল শ্রীলঙ্কা
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (BAERA) কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন। পরে নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম রূপপুরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি ফ্লাইটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আরও ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি রয়েছে।
রাশিয়া থেকে এসব চালান কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছায়। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে এর আগে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কারিগরি ও প্রটোকলসংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে পাকিস্তান শুরুতে ক্লিয়ারেন্স দিতে বিলম্ব করেছিল। সে সময় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার আন্তর্জাতিক আইন ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়টি অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিলেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহের এই ধাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম পরিবহন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।





