দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হলেও ভোটের মাঠ ছাড়েনি বিরোধী জোট।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট রাষ্ট্রপতি পদে এলডিপি সভাপতি অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। ফলে ফলাফল অনেকটা অনুমিত হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন ১৯৯১ সালে
রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হন আবদুর রহমান বিশ্বাস।
এরপর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩৫ বছর পর এবার আবারও দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের আয়োজন হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ, আপিল বিভাগে আবেদন
জয় অনেকটা নিশ্চিত হলেও ভোটের মাঠে বিরোধী জোট
বর্তমান সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে বিরোধী জোটের প্রার্থী অলি আহমদ নির্বাচনে থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি একতরফা না হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ পেয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সেটিকে একপেশে নির্বাচন বলা যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নিয়ে আসা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে সংবিধান ও নির্বাচন কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হলে সংসদ সদস্যদের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন আরও স্পষ্টভাবে ঘটতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় নির্বাচন অর্থবহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে সেটি অর্থবহ হয় এবং মানুষের কাছেও এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ হিসেবে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার বিষয়টিও এ নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। যারা গণতান্ত্রিক চর্চা ও স্বাধীন মতপ্রকাশে বিশ্বাস করেন, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখবেন।
মির্জা ফখরুলকে প্রার্থী করেও রাজনৈতিক বার্তা
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকেও যৌক্তিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এবারের নির্বাচন কেবল কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেওয়া, বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কৌশল এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিদ্যমান কাঠামো—সব মিলিয়ে নির্বাচনটি দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ফলাফল আগে থেকেই অনেকটা অনুমিত হলেও ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে।





