সুমন দত্ত
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ চলছে এক অজানা গন্তব্যে। এর শেষ পরিণতি কি হবে তা আগাম বলা যাচ্ছে না। যে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনল তারা আজ নিষিদ্ধ। তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ। বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করছে।
নিষিদ্ধ দলটি বিনা ভোট বার বার নির্বাচিত হওয়ার এক ট্রেন্ড শুরু করেছিল। জনগণের ভোটাধিকারের কোনো গুরুত্ব ছিল না। নিজেদের খেয়ালখুশি মতো দেশ পরিচালনা ছিল ওই স্বৈরাচারের গণতান্ত্রিক চর্চা। আর প্রতিবেশী দাদারা তাতে দিত জোরাল সমর্থন। দুই বার সফল হলেও তৃতীয় বার আর পারল না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুরো চিত্র পাল্টে যায়।
নিষিদ্ধ হবার আগে ওই শাসক গোষ্ঠী দেশের সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের এক প্রধান বিচারপতিকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়। এক বিচারপতিকে নগ্ন অবস্থায় কলা পাতায় মোড়া অবস্থায় সীমান্তে পাওয়া যায়। আরেক বিচারপতিকে বাসা থেকে নিয়ে ছাত্র হত্যার মিথ্যা মামলায় জেলে ঢোকানো হয়। এই হচ্ছে দেশের বিচার বিভাগের বিচারপতিদের অবস্থা। এমন ইতিহাস পৃথিবীর কোনো দেশের আছে কিনা সন্দেহ। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এক উদাহরণ হয়ে থাকবে। গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে থাকবে।
পতিত সরকার পুলিশ কে নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করেছিল। যে কারণে জনগণের ক্ষোভের আগুন পড়ে পুলিশের ওপর। পুলিশের নিরীহ সদস্যদের জ্বলে পুড়ে মরতে হয়। আর উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্রয় নেয় সেনা ব্যারাকে। পরে সেখানে খেকে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়।
পুলিশ অক্ষম হলে তাদের অনুপস্থিতিতে দেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটে। এমনটা বলা যাবে না। কারণ একটা মৌলবাদী শক্তি একদিনে গড়ে উঠে না। এটা ধীরে ধীরে গড়ে উঠে। কওয়ামী জননী খেতাব প্রাপ্ত ওই ফ্যাসিস্ট দেশে মৌলবাদের চাষাবাদ করে গেছে। কওয়ামীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢোকার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিলেন। মৌলবাদীদের সন্তানদের নিজ দলে আশ্রয় দিয়েছিলেন। জেনে শুনেই দিয়েছিলেন। পরিণাম আজ সবার সামনে। দল নিয়ে দেশত্যাগ। আর যারা আছে তারা ইঁদুরের গর্তে লুক্কায়িত। মাঝে মধ্যে গর্ত থেকে বেরিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।
বাংলাদেশ এখন একটি জঙ্গি রাষ্ট্র। জঙ্গিবাদ এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ইসকন, ভারতের র এর এজেন্ট, ভারতীয় দালাল ইত্যাদি ট্যাগ দিয়ে দেশ ছাড়ার হুমকি প্রতিনিয়ত দিচ্ছে উগ্রবাদী জনগোষ্ঠী। এই উগ্রবাদীরা আবার হচ্ছে ভণ্ড প্রকৃতির। এদের ভণ্ডামি দেখে সবাই অবাক। অথচ ভারতের পেয়াজ রসুন কাঁচামরিচ ও হিন্দুস্তানি নায়ক নায়িকার দেহ দেখে এদের দিন যায়।
এরা খাবে দাবে দেশে, টাকা পাচার করবে বিদেশে। কানাডায় বেগম পাড়া, মালয়েশিয়ায় কাজী পাড়া ইত্যাদি বানাবে। অন্যদিকে হিন্দুরা বিদেশে টাকা পাঠালে এদের গা জ্বলতে থাকে। এদেশের মুসলিমরা দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে দেশে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হবে। তাতে দোষের কিছু নাই। হিন্দুরা ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশে থাকলে দোষ।
বাংলাদেশের লোকদের ইউরোপ আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করলে কোনো সমস্যা না। এমনকি ইসলামিক দেশগুলো থেকে এদেশের লোকজনকে বের করে দিলে কোনো সমস্যা হয় না। তবে ভারত থেকে বের করে দিলে বাদ প্রতিবাদ শুরু হয়। তাদের যুক্তি ভারত নাকি ভারতের লোকদের বহিষ্কার করছে। অন্যদিকে ১৩-১৪ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানকে মিয়ানমার থেকে বের করে দিলে এদের কোনো সমস্যা হয় না। এর প্রতিবাদে কোনো মিছিল হয় না। উল্টো এদের কে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়।
এই টাইপের ভণ্ডদের হাতে আজ দেশ পড়েছে। দেশে এখন নাই বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি। মানুষ এসব নাগরিক সুবিধা না পেয়ে উত্তেজিত অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে সরকার নানা সম্ভাবনার বাণী ও আশ্বাস। মাদকে গ্রাস করেছে পুরো দেশ। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বিক্রি হচ্ছে মাদক। অথচ প্রশাসন ঘোষণা করে যারা মাদক সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দেবে তাদের কে পুরষ্কার দেওয়া হবে। তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। অথচ পুলিশের কাছে আছে মাদক সন্ত্রাসীদের এলাকা ভিত্তিক তালিকা। যে তালিকা অনুসারে পুলিশ মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে মাসিক টাকা পায়। অথচ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে না জানার ভান করে বসে আছে।
দেশে আজ বিদ্যুৎ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ বিদ্যুতের অপব্যবহার ও চুরি বন্ধ করতে ব্যর্থ সরকার। ফুটপাতে রাতে যেসব পণ্য বিক্রি হয় সেগুলো রাস্তার লাইন থেকে চুরি করা বিদ্যুৎ। ব্যাটারি চালিত রিকশা যেখানে চার্জ হয়। সেখানে নেই কোনো বিদ্যুতের বৈধ সংযোগ। অবৈধ লাইন থেকে প্রকাশ্যে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়। সরকার পায় না কোনো টাকা। তাই অবিলম্বে এই ব্যাটারি চালিত রিকশা উঠিয়ে দেবার প্রস্তাব করা হলেও সরকার তা করছে না। যুক্তি বহুলোকের রুটি রুজি শেষ হয়ে যাবে এতে। এতদিন যেখানে গ্যাস সংকট ছিল না সেখানে সেটাই হচ্ছে। শহর গ্রামে লোডশেডিং বুঝিয়ে দিল দেশ শাসন করছে বিএনপি।
এই লোডশেডিং করেই বিদায় নিয়েছিল বিএনপি। ছিল একটানা ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে। ১০ ট্রাক অস্ত্র, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, দেশে ৬৩ জেলায় জঙ্গি জেএমবির বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে বিএনপির অতীত ইতিহাস। সেই সব ইতিহাস কে পিছনে ফেলে বিএনপি এখন ক্ষমতায়। যাদের পা ধরে বিএনপি ক্ষমতায় আসল তাদের সঙ্গে বিএনপি করছে নখরা। কথায় আছে ন্যাংটার নাই বাটপারের ভয়। যে লোক দেশে আসতে প্রতিবেশী দাদাদের পা ধরে অনুমতি চায়। সে লোক বলে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের কথা।তারা চায় যোগ্য সম্মান। সংস্কারের নামে ক্ষমতায় আসা বিএনপি দেখাচ্ছে ফ্যাসিবাদের নতুন সংস্করণ।
গুম খুনের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিএনপি এখন নিজেই মিরাজ শেখ নামে এক লোক কে গুম করে অস্বীকার করছে। মিরাজ শেখ কে কোস্ট গার্ড গুম করেছে বলে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনো এসব অস্বীকার করছেন। বলা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাইসভার্সা। তিনি নাকি ভরত কর্তৃক নিয়োগকৃত। মনে হয় এ কারণে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র প্রকাশ্যে দলবল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেল। আর ভারতের এই গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে বিএনপি সেকি রাজনীতি। এদেশের প্রতিটা হিন্দু নাকি র এর এজেন্ট। অথচ নিজেরা গোপনে র এর এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করে। বিএনপি মনাদের এই ভণ্ডামি এখন জগত বিখ্যাত।
এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে দুহাত ভরে ভোট দিয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ। বিএনপির বেশ কয়েকটি আসনের সংসদ সদস্যা তা প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে হিন্দুদের প্রতি বিএনপির সমর্থকদের আচরণ সেই আগের মতোই বহাল আছে। কথায় কথায় তারা এদেশের হিন্দুদের ভারত চলে যাবার নসিহত দেয়। হিন্দুদের প্রতি বিএনপির এইরূপ আচরণ বহাল থাকলে আগামীতে হিন্দুরা বিএনপির বিকল্প বেছে নিতে পারে।





