স্ত্রীকে ভারতে পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফরিদপুরে জাহিদ শেখ (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে আলফাডাঙ্গায় ওই নারীর সঙ্গে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার এক যুবকের বিয়ে হয়। কয়েক মাস পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ওই নারীর সঙ্গে জাহিদ শেখের পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদ পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাকে ভারতের কেরালায় পাচার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
ভারতের কেরালায় যাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ ওই নারীকে আটক করে। পরে একজন আইনজীবীর সহায়তায় তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর মা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ৫ মার্চ জাহিদ শেখসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা করেন। তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার এসআই মো. কামরুজ্জামান ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালত একই আইনের অপর একটি ধারায় জাহিদ শেখকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে উভয় সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
মামলার অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।





