লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন

রোম সাম্রাজ্যের রাজত্বকালে তৃতীয় শতাব্দীর মাঝা-মাঝি সময়ে সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস সিংহাসনে রাজত্ব করছেন। খুব জাদরেল রাজা। প্রজাদের ঔদ্ধত্যে তিনি অস্থির। ঠিক করলেন প্রেম, ভালোবাসা, পিছুটানকে রাজ্যে ঠাঁই দেবেন না। জারি হলো নিষেধাজ্ঞা। ক্লডিয়াসের রাজ্যে হবে না কোনো বিয়ে। এই আইনে খেপে গেল প্রজাগণ। ক্ষুব্ধ হলেন রাজপুরোহিত ভ্যালেন্টাইন। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতেই তার ছিল যত উৎসাহ! রাজ আইনকে ফাঁকি দিয়ে তিনি লুকিয়ে বিয়ে দিতে লাগলেন প্রেমিক-প্রেমিকাদের। একদিন তা ধরা পড়ে গেল রাজার চোখে। রাজ দরবারে তাকে ডেকে পাঠান এবং নির্দেশ অমান্য করায় কারাবন্দি করার নির্দেশ দেন।

রাজপেয়াদারা ভ্যালেন্টাইনকে জেলে দিল। তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। সে প্রতিদিন ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে জেলে বসে গল্প করত। মনে সাহস জোগাত ভ্যালেন্টাইনের। শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড। দলে দলে যুবক-যুবতি ভিড় জমাতে লাগলেন জেলের বাইরে বন্দি ভ্যালেন্টাইনকে তারা ছুড়ে দিলেন ফুল। মারা যাওয়ার দিন ভ্যালেন্টাইন সে মেয়েটিকে একটি ছোট চিঠি লিখে যান, ‘লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন।’ ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ২৬৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকে প্রেমিক যুগলদের পাঠানো কার্ড ও চিঠিপত্রে এই লেখাটি ব্যবহার করা হয়। সেদিনটাকে প্রেমের দিবস বলে মেনে নিয়েছে বিশ্ববাসী।

খৃস্টীয় এই ভ্যালেন্টাইন দিবসের চেতনা বিনষ্ট হওয়ায় ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ভ্যালেইটাইন উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়। ইংল্যান্ডে ক্ষমতাসীন পিউরিটানরাও একসময় প্রশাসনিকভাবে এ দিবস উদযাপন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও জার্মানিতে বিভিন্ন সময়ে এ দিবস প্রত্যাখ্যাত হয়। সম্প্রতি পাকিস্তানেও ২০১৭ সালে ইসলামবিরোধী হওয়ায় ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ করে সেদেশের আদালত। বর্তমানকালে, পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে এই ভালোবাসা দিবসের জন্য কার্ড, ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী ও শুভেচ্ছা কার্ড ক্রয় করতে, এবং আনুমানিক প্রায় ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।