আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে তৈরি হয়েছিল আবেগঘন এক পরিবেশ। উচ্ছ্বাস, স্মৃতি আর বিদায়ের বেদনায় ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের স্টেডিয়ামটি পরিণত হয়েছিল বিশ্বকাপজয়ীদের মিলনমেলায়।
মেসিকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আয়োজন করেছিল বিশেষ বিদায়ী অনুষ্ঠান। ম্যাচটির সব টিকিট মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। পরে পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি টিকিটের দাম ২ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও মেসির বিদায়ী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি আগেই বলেছিলেন, মনুমেন্তালে মেসির পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি বিশেষ হয়ে উঠবে।
মাঠে যাওয়ার পথেও মেসিকে ঘিরে ছিল ভক্তদের উন্মাদনা। বুধবার ভোরে দলের বাস যখন স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিল, তখন রাস্তার দুই পাশে হাজারো মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানাতে জড়ো হন। ভক্তদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত মেসির চোখে পানি দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা রাস্তা ফাঁকা করার চেষ্টা করলেও অনেকেই কাছ থেকে মেসিকে একবার দেখার জন্য সড়কে নেমে আসেন। এতে আর্জেন্টিনা দলের বাস নির্ধারিত সময়ের পরে স্টেডিয়ামে পৌঁছায়।
ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে বিছিয়ে দেওয়া হয় আর্জেন্টিনার বিশাল ১০ নম্বর জার্সি। তবে সেখানে মেসির নামের বদলে লেখা ছিল ‘গ্রেসিয়াস’, অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ’। গ্যালারি থেকে তখন মেসিকে উদ্দেশ করে একের পর এক স্লোগান ওঠে।
জাতীয় সংগীত চলার সময়ও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তার সঙ্গে মাঠে ছিলেন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও চিরো। আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। দর্শকেরাও জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান এবং মেসিকে সম্মান জানাতে থাকেন।
এরপর শুরু হয় মেসির বিদায়ী ম্যাচ। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ও ২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল আফ্রিকার দেশ বেনিন। ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির সম্মানে খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। এ সময় প্রায় দুই মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে ‘ওলে ওলে মেসি’ স্লোগানে প্রিয় তারকাকে অভিবাদন জানান দর্শকরা।
জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটিও স্মরণীয় করে রাখেন মেসি। একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে মাঠে চলে বিশেষ সম্মাননা ও বিদায়ী আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মনুমেন্তালের আকাশে ড্রোন শোতে ফুটে ওঠে ‘গ্রেসিয়াস লিও’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ লিও’ বার্তা। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তি। তার ‘ব্রিনদিস’ গানের পরিবেশনার সময় মেসিকে হাসিমুখে দেখা যায়।
সবশেষে বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগে ভেসে যান মেসি। দর্শকদের ভালোবাসা, বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থদের উপস্থিতি এবং শেষ ম্যাচের স্মৃতি মিলিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়ে ওঠে এক আবেগঘন মুহূর্ত।





