এক ম্যাচে দুই দলের সংগ্রহ ৮৫৯ রান, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের রেকর্ডগড়া দ্বিশতক এবং ৪৩০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়—সব মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে স্মরণীয় এক লড়াই উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাওয়ালপিণ্ডিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ব্যাটসম্যানদের দাপটে ভেঙেছে একাধিক রেকর্ড।
ইংল্যান্ডের হয়ে ব্রুকের বিধ্বংসী ইনিংস যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত রান তাড়াও জায়গা করে নিয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে। ম্যাচটিতে ব্যক্তিগত অর্জন, দলীয় সংগ্রহ, বাউন্ডারি এবং বোলিং—বিভিন্ন বিভাগেই তৈরি হয়েছে নতুন নজির।
১. ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ব্রুকের নতুন কীর্তি
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১১৬ বলে ২০২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। চার ও ছক্কার বৃষ্টিতে মাত্র ১১৪ বলে দ্বিশতক পূর্ণ করে দ্রুততম ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ভারতের শুভমান গিলের, যিনি ১১৭ বলে দ্বিশতক করেছিলেন।
ব্রুকের এই ইনিংস ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তিনি প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও নিজের করে নেন। এর আগে বেন স্টোকসের ১৮২ রান ছিল ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের কীর্তিও গড়েন ব্রুক।
২. দুই দলের সম্মিলিত সংগ্রহ ৮৫৯ রান
ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার এই ম্যাচে দুই দলের মোট রান দাঁড়ায় ৮৫৯। ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ম্যাচে দুই দলের সম্মিলিত রানের হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ম্যাচটি। সেই লড়াইয়ে দুই দল মিলে করেছিল ৮৭২ রান। প্রায় দুই দশক পর রাওয়ালপিণ্ডিতে আবারও দেখা গেল এমন রানবন্যা।
৩. ৪৩০ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার জয়
ইংল্যান্ডের করা ৪২৯ রানের জবাবে ৪৩০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে ক্রিকেটে সফল রান তাড়ার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির রয়েছে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রানের জবাবে ৪৩৮ রান করে জিতেছিল প্রোটিয়ারা। রাওয়ালপিণ্ডির ম্যাচেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল। দুই দলই নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের দেখা পায়।
৪. ১০৩ রান দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড স্যাম কারানের
ইংল্যান্ডের পেসার স্যাম কারানের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। ৯ ওভার বল করে তিনি খরচ করেন ১০৩ রান। ওয়ানডেতে কোনো ইংলিশ বোলারের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রান দেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড এখন তাঁর দখলে।
এর আগে এই রেকর্ডও ছিল কারানের নামে। এক ম্যাচে ৯৮ রান দিয়েছিলেন তিনি। এবার নিজের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে আরও ব্যয়বহুল বোলিংয়ের নজির গড়লেন এই ইংলিশ পেসার।
৫. বাউন্ডারি থেকেই ব্রুকের ১৪৪ রান
ব্রুকের ২০২ রানের ইনিংসের মধ্যে ১৪৪ রান এসেছে চার ও ছক্কা থেকে। ওয়ানডেতে কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এটি।
এর আগে ইংল্যান্ডের হয়ে এই রেকর্ড ছিল জস বাটলারের। তাঁর বাউন্ডারি থেকে করা ১২৪ রানের নজির পেছনে ফেলেছেন ব্রুক।
৬. অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি
অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে দ্বিশতক করার বিরল কীর্তিতে এবার যুক্ত হলেন হ্যারি ব্রুক। তাঁর আগে এই অর্জন ছিল ভারতের বীরেন্দর শেবাগ, রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলের।
ইংল্যান্ডের অধিনায়কদের মধ্যে ওয়ানডেতে আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল অ্যান্ড্রু স্ট্রসের। ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫৮ রান করেছিলেন তিনি। ব্রুকের ২০২ রানের ইনিংস সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতা তৈরি করেছে।
৭. এক ম্যাচে ৯৩টি চার, ওয়ানডেতে নতুন রেকর্ড
রাওয়ালপিণ্ডির এই ম্যাচে দুই দলের ব্যাটসম্যানরা মিলে মেরেছেন ৯৩টি চার। ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ম্যাচে দুই দলের সর্বোচ্চ বাউন্ডারির রেকর্ড এটি।
এর আগে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে দুই দল মিলে ৮৭টি চার মেরেছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যায় ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা লড়াই। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ৪৮টি এবং শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা ৪৫টি চার মারেন।
রেকর্ড আর পাল্টা রেকর্ডের এই ম্যাচে ব্রুকের অতিমানবীয় ইনিংস এবং শ্রীলঙ্কার দুর্দান্ত রান তাড়া—দুটিই ওয়ানডে ক্রিকেটের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।





