ইউরোপে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ইতিহাসের বিতর্ক

ইউরোপে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ইতিহাসের বিতর্ক
মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ইতিহাসের বিতর্ক

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফ্রান্সে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা কিছু প্ল্যাকার্ডের ভাষা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই ধরনের স্লোগান বেলজিয়াম ও জার্মানির বিক্ষোভেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভের স্থান, সময় ও প্ল্যাকার্ডের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আলোচনায় উঠে এসেছে ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ প্রবণতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির গণহত্যার দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত প্রভাবের বিষয়টিও।

২০৫০ সালে ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা কত হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার ২০১৭ সালে ইউরোপের মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে। এতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার সম্ভাব্য পরিবর্তন বোঝাতে অভিবাসনের মাত্রা অনুযায়ী তিনটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ৪.৯ শতাংশ ছিলেন মুসলিম। ভবিষ্যৎ অভিবাসন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলেও জনসংখ্যার বয়সগত কাঠামো ও জন্মহারের পার্থক্যের কারণে ২০৫০ সালে এই হার ৭.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, স্বাভাবিক অভিবাসন অব্যাহত থাকা এবং শরণার্থী আগমনের মাত্রার ওপর নির্ভর করে মুসলিম জনসংখ্যার হার ২০৫০ সালে ১১.২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। এগুলো নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস; নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

জার্মানির ক্ষেত্রে গবেষণার উচ্চ অভিবাসন পরিস্থিতিতে ২০৫০ সালে মুসলিম জনসংখ্যার হার প্রায় ১৯.৭ শতাংশ এবং অস্ট্রিয়ায় ১৯.৯ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। তবে এসব হিসাব ২০১৬ সালের জনসংখ্যা ও অভিবাসনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারণে নতুন পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ইউরোপের ইহুদি জনসংখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানি ও তার সহযোগীরা প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করে। হলোকাস্ট ইউরোপের ইহুদি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা, সামাজিক কাঠামো, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারে গভীর প্রভাব ফেলে।

যুদ্ধের আগে ইউরোপের বহু দেশে ইহুদিদের উল্লেখযোগ্য জনবসতি ছিল। গণহত্যা, বাস্তুচ্যুতি ও পরবর্তী অভিবাসনের ফলে সেই জনসংখ্যার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। তবে হিটলারের গণহত্যা না ঘটলে আজ ইউরোপে ইহুদির সংখ্যা ঠিক কত হতো, কিংবা ইউরোপ ও সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা কত বেশি থাকত—এ ধরনের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রতিষ্ঠা করতে আলাদা জনমিতিক গবেষণা প্রয়োজন।

ইউরোপে অভিবাসন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ শ্রমবাজারের চাহিদা, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কম জন্মহার, পারিবারিক পুনর্মিলন, শিক্ষা এবং মানবিক আশ্রয়ের মতো বিভিন্ন কারণে অভিবাসীদের গ্রহণ করে। তবে সব অভিবাসী মুসলিম নন, আবার সব মুসলিম অভিবাসীও একই কারণে ইউরোপে যান না।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় দেখা যায়, ইউরোপের জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ পরিবর্তনে অভিবাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর বয়স ও জন্মহারের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অতএব, ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনকে কেবল একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়। অভিবাসননীতি, অর্থনীতি, জনসংখ্যার বয়সগত কাঠামো এবং সামাজিক সংহতি—সবকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ বিতর্ক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।