নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সরঞ্জামের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও অতীতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এ খাতে কাজ শুরু করেছে। এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতি জারি করেছেন এবং বিশেষ জ্বালানি আইন পরবর্তী সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বিশেষ জ্বালানি আইন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আগের সরকার অনিয়মের উদ্দেশ্যে এ ধরনের আইন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড এখনো আধুনিক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এই গ্রিডে পারমাণবিক, জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য বিভিন্ন উৎসের বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। কিন্তু এ জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বিএনপি সরকার গ্রিড আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেনা এবং জ্বালানি সরবরাহেও বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।
এলএনজি আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাতারের ওপর নির্ভরশীল থাকার সময় বোমা হামলার কারণে দেশটি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন ১০-১২ ডলারের এলএনজি ৩০ ডলার পর্যন্ত দামে কিনতে হয়েছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
দেশের ভূগর্ভে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে একটি কূপও খনন করা হয়নি। অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে এর প্রভাব দেশকে আরও ৫০ থেকে ৬০ বছর ভোগ করতে হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনপর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, জ্বালানি খাতে নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৬ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এবং এর বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় এ খাত নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মেলা চলবে।
‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলায় তরুণ, নারী, শ্রমিক, নাগরিক সংগঠন এবং জলবায়ু নিয়ে কাজ করা এক হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি নীতিনির্ধারক, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে মেলা শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।





