মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ওরফে বাবু মোল্লার বিরুদ্ধে স্থানীয় শালিস-বাণিজ্য, জমি কেনাবেচায় হস্তক্ষেপ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বিতরণে প্রভাব বিস্তার এবং বাজার, ঘাট ও ফেরিঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরে সাবেক সংসদ সদস্য নূর আলম চৌধুরীর আশীর্বাদে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন গোপনে। শিবচর ও ঢাকার বিভিন্ন আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে তিনি লোকবল ও অর্থ যোগান দিয়ে থাকেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নে শালিস-বিচার ও জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বাবু মোল্লার অনুমতি বা ‘উপঢৌকন’ না পেলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়। এমনকি জমি রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনা বিচারে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসার নামে তিনি নিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করেন। জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
সরকারি সুবিধা বিতরণেও প্রভাবের অভিযোগ
মাদবরেরচর ইউনিয়ন পরিষদে টি-আর, আর, ভিজিএফ কার্ড এবং ন্যায্যমূল্যের খাদ্য বিতরণে বাবু মোল্লার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, তার সুপারিশ বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অনেক দরিদ্র মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও তার অনুসারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি কার্ড বা খাদ্য সহায়তা পেতে হলে বাবু মোল্লার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। তার পছন্দের মানুষ ছাড়া অনেকেই সুবিধা পান না।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরে মাদবরেরচর, পাচ্চর ও কাওড়াকান্দি এলাকায় খাজনা আদায়, ফেরি টোল এবং ভিআইপি স্পিডবোট নির্ধারণে বাবু মোল্লার প্রভাব ছিল। সাবেক সংসদ সদস্য নূর আলম চৌধুরীর রাজনৈতিক আশীর্বাদে তিনি এসব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বাজার ও ঘাটে খাজনা আদায় এবং ফেরি টোল ব্যবস্থাপনায় তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা যুক্ত ছিলেন। ভিআইপি স্পিডবোট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কারা সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণে তার প্রভাব ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বলেন, বাজার ও ঘাটকেন্দ্রিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাবু মোল্লার লোকজনের প্রভাব ছিল। কেউ তার সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে ব্যবসায়িকভাবে চাপের মুখে পড়তে হতো বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মিজানুর রহমান ওরফে বাবু মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শালিস-বিচার, জমি কেনাবেচা, সরকারি সহায়তা বিতরণ এবং বাজার-ঘাটের ব্যবস্থাপনায় কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তির অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ থাকলে তা প্রশাসনের তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়ম, চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।





