তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সমন্বয় কমিটি গঠন করতে হবে।
আজ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ইয়াবা উদ্ধার ও মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে যাতে এলাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। একইসঙ্গে পুলিশকেও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।
তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।





