সুমন দত্ত: বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ওয়ারিয়র্স হ্যান্ডবল লিগ (পুরুষ)-২০২৬’-এর অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পল্টনস্থ শহীদ (ক্যাপ্টেন) এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লিগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ আনসারকে ৩৭-৩৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে বিজিবি।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই অঘোষিত ফাইনালের প্রথমার্ধেও ১৬-১৪ গোলে এগিয়ে ছিল বিজয়ী দল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নিজেদের লিড ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা। অন্যদিকে আসরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশ আনসারকে।
এর আগে, দিনের প্রথম খেলায় (স্থান নির্ধারণী ম্যাচ) বাংলাদেশ পুলিশকে হারিয়েছে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল এ দল। দারুণ রোমাঞ্চ ছড়ানো এই ম্যাচে এ দল জয় পেয়েছে ৩৫-৩২ গোলের ব্যবধানে। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ পুলিশ ১৪-১৩ গোলে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ এ দল।
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মজনু মোল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহম্মেদ, যুগ্ম সম্পাদক এস.এম খালেকুজ্জামান, ওয়ারিয়র্স লিগের সম্পাদক মো: দিদার হোসেনসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন মজনু মোল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বাঘে-মোষে যে লড়াই আমরা দেখতে পাই কিংবা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা হাই ভোল্টেজ ম্যাচ বলতে যেটা বোঝায়, আমরা কিন্তু সবাই সেটাই উপভোগ করেছি।’ চ্যাম্পিয়ন বিজিবিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের দৃঢ়তা, টিমওয়ার্ক এবং স্কিল তাদের বিজয়ের মালা ছিনিয়ে এনে দিয়েছে।’ এ সময় তিনি রানার্সআপ আনসার দলের খেলোয়াড়দের গতি ও লড়াইয়ের মানসিকতারও প্রশংসা করেন এবং আগামী সাফ গেমসে এই খেলোয়াড়দের নিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে সর্বোচ্চ জায়গায় দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন বিজিবি দলের ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়াড় তাজু হাসান। পাশাপাশি সেরা গোলরক্ষকও নির্বাচিত হয়েছেন একই দলের ১২ নম্বর জার্সিধারী অনিক হাসান। প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে বিজিবি পেয়েছে ৩০,০০০ টাকা এবং রানার্সআপ বাংলাদেশ আনসার পেয়েছে ২০,০০০ টাকা প্রাইজমানি।





