নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ, ফুটেজ ছড়িয়েছে

নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ, ফুটেজ ছড়িয়েছে
মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ

নেত্রকোনার এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ফুটেজগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কয়েকজন শিক্ষক ঘটনার তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছড়িয়ে পড়া ফুটেজের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে বোরকা পরা এক নারীর সঙ্গে টেবিলের দুই পাশে বসে কথা বলতে দেখা যায় শিক্ষক এহসানুল হককে।

পরবর্তী কয়েক মিনিটের ফুটেজে ওই শিক্ষককে টেবিল ছেড়ে নারীর চেয়ারের পেছনে যেতে এবং পরে তার পাশে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার দৃশ্যও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের আরেকটি ফুটেজ ২০ আগস্ট দুপুরের বলেও দাবি করা হয়েছে।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, সিসিটিভির লাইভ মনিটরিংয়ের সময় তারা বিষয়টি দেখতে পান। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন শিক্ষকের এমন আচরণের অভিযোগ ওঠা অনভিপ্রেত এবং বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মাদ্রাসা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও ওঠে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং বহিষ্কারের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্তে তাদের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

মাদ্রাসার প্রভাষক নাজনিন নাহার বলেন, ছুটির পর অফিস কক্ষের মনিটরে তিনি একটি কক্ষে এক নারী ও পুরুষের কিছু অপ্রীতিকর আচরণ দেখতে পান। তখন মাদ্রাসায় অনার্স পরীক্ষা চলছিল। পরে বিষয়টি তিনি আরেক শিক্ষককে দেখান।

শিক্ষক মেহেবুবে আলম জেবিন বলেন, সিসিটিভিতে যে দৃশ্য দেখেছেন তা অত্যন্ত আপত্তিকর। একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আচরণের অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি যথাযথ শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হক দাবি করেন, অপর শিক্ষক মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে তাকে হেনস্তা করছেন।

অন্যদিকে মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, এক শিক্ষিকার অনুরোধে তিনি বিষয়টি দেখার চেষ্টা করেন এবং পরে অধ্যক্ষকে অবহিত করেন। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়ার কারণেই এখন উল্টো তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

স্টাফ রিপোর্টার

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।