প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র ও পদায়নের সময়সূচি প্রকাশ

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র ও পদায়নের সময়সূচি প্রকাশ
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগপত্র ও পদায়নের সময়সূচি প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ও পদায়নের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিতদের নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা নিয়োগপত্র ও পদায়ন আদেশ জারির প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। পরে ২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র জারি করতে হবে। কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব না হলে তার কারণ ও মতামতসহ তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

নিয়োগপত্র জারির আগে নির্বাচিত প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তা এবং আবেদনপত্রে উল্লেখ করা তথ্য ও সনদ যাচাই করতে বলা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে থাকার কথা। বয়স প্রমাণে এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রার্থীদের তথ্য যাচাই শেষে উপজেলা বা থানাভিত্তিক নিয়োগ আদেশ জারি করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগের আগে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ এবং ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করতে হবে।

কোনো প্রার্থীর তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে, স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ না থাকলে অথবা ডোপ টেস্টের ফল নেতিবাচক হলে তাঁর নিয়োগপত্র স্থগিত রাখতে হবে। এসব প্রার্থীর বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনএসআইয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেলে নিয়োগ আদেশ জারি করা যাবে না। নিয়োগপত্রে প্রার্থীর নাম, মা-বাবা বা স্বামীর নাম এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা মূল আবেদনপত্রের তথ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

নিয়োগপত্রের খসড়া অনুযায়ী, নির্বাচিতরা জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেতনক্রমের গ্রেড-১৩ পদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন।

চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সময়ে কর্মদক্ষতা, আচরণ ও চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। শিক্ষানবিশকাল চলাকালে বদলির আবেদন করা যাবে না।

নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শিশুদের শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের সময় জমা দেওয়া কোনো তথ্য বা সনদ পরবর্তী সময়ে মিথ্যা, ভুয়া বা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

চাকরিতে যোগদানের পর শিক্ষকদের সরকার নির্ধারিত দুই মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে চার বছরের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ বা বিটিপিটি সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করলে কিংবা প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে চাকরি স্থায়ী করা হবে না।

যোগদানের সময় ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বন্ড দিতে হবে। ওই বন্ডে নিজে কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য যৌতুক না নেওয়া এবং না দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।

সূচি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালীন নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত দিনে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক হিসেবে বিবেচনা করে নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে।

এরপর ৪ অক্টোবর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়ন আদেশ জারি করা হবে। প্রশিক্ষণের বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। নিয়োগপ্রাপ্তরা ‘প্রাতিষ্ঠানিক কোড নং ১২৪০২০৯০০০০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ’ খাত থেকে বেতন-ভাতা পাবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।