আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সহজ করা এবং বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, আইনগত সহায়তার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং বিচারপ্রাপ্তির পথে বিদ্যমান বাধা দূর করা সম্ভব। এ উদ্যোগ সফল হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে। এ জন্য চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের সততা, দক্ষতা ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর হোটেল অবকাশে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে কর্মকর্তারা সমাজের প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা বাড়ছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় আরও কার্যকর ও মানসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্জিত অভিজ্ঞতাই প্রকৃত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের যেসব সমস্যা প্রত্যক্ষভাবে জানতে পারছেন, তা তাদের বিচারিক উপলব্ধিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকরা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ কমানো গেলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যানবাহনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি ছুটিসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সাফল্য মূল্যায়নে শুধু পরিচালিত কার্যক্রমের সংখ্যা নয়, বরং এর মাধ্যমে কী ধরনের ফলাফল অর্জিত হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রমের অর্জন ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে জনসেবার মানসিকতা থাকা জরুরি। চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাকে (জাইকা) ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের মেধা, শ্রম, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকার অ্যাক্সেস টু জাস্টিস প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা তাকুরো ফুজিওকা এবং আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এসএম এরশাদুল আলম।
চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৩৩ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।





