দেবোত্তর সম্পত্তিতে ভাড়াটিয়াদের বিল্ডিং নির্মাণের হিরিক

প্রানতোষ তালুকদার: ঢাকার লক্ষীবাজারস্থ ১০ নং শ্যামাপ্রসাদ লেনে অবস্থিত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দির। দশ ডেসিমেল জায়গা নিয়ে দেবোত্তর ভূমিতে এই মন্দিরটি অবস্থিত। উক্ত মন্দিরের দেবোত্তর ভূমিতে মন্দিরের ভাড়াটিয়াগণ ঢাকা ডিসি ও রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বিল্ডিং নির্মাণ করছে। জানা গেছে যতগুলো দেবোত্তর সম্পত্তি আছে, তা জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রনাধীন। কিন্তু মন্দিরের ভাড়াটিয়াগণ কিভাবে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই বিল্ডিং নির্মাণ করছে?
নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরটি ১৯৮৮ সালে তৎকালীন সেবায়েত বিক্রি করার পায়তারা করে। কিন্তু তখন এলাকাবাসীর সহযোগীতায় সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কমিটির মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হয় এবং নরসিংহ মন্দির নিয়ে মামলাও হয়। মামলায় মন্দিরের পক্ষে মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের রায় হয়।
মন্দিরের ভক্তবৃন্দের সহযোগীতায় এই মন্দিরটি সংস্কার করে নৃসিংহদেবের বিগ্রহ স্থাপন করার ফলে ব্যাপক সাড়া পড়ে। প্রতিদিন মন্দিরটিতে বহু ভক্ত এবং উৎসবে হাজার হাজার ভক্তের সমাগত হয়। এই মন্দির এলাকায় ২২/২৩ ঘর ভাড়াটিয়া আছে। এই ভাড়াটিয়া নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সূত্রাপুর থানা পূজা কমিটির সহযোগিতায় সরকার অনুমোদিত কমিটি বিলুপ্ত করে নিজেদের মনের মত কমিটি করে মন্দির পরিচালনা করিতেছে।
বর্তমানে মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তির ভাড়াটিয়ারাগণ নিজেদের স্বার্থে যার যার ঘর ভেঙ্গে দুইতলা, তিন তলা ভবন নির্মাণ করিতেছে, যা ডিসি অফিস ও রাজউক এর কোন অনুমোদন নেই। মন্দিরের এলাকার ভাড়াটিয়ারা দুইশত, তিনশত টাকা ভাড়া দিতে পারে না অথচ এইসব ভাড়াটিয়ার একজন প্রদীপ চক্রবর্ত্তী নিজের ঘর ভেঙ্গে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করিয়াছেন। প্রদীপ চক্রবর্ত্তী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সে কোন কাজ-কর্ম করে না, বেকার। কিন্তু কি করে এত টাকার মালিক বনে গেল? ইতিমধ্যে প্রদীপ চক্রবর্ত্তী দু’তলা বিল্ডিং নির্মাণ করিয়াছে। একজন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক হয়েও সে এই সব ভাড়াটিয়াদের সাথে মিলিত হয়ে অপকর্ম করছে।
অন্যান্য ভাড়াটিয়া পূর্ণিমা রাণী দাস, চঞ্চল রাওয়ানি, সমীর কুর্মি, মদন কুর্মি, চন্দন কুর্মি শান্তি সিং দোতলা ভবন নির্মাণ করিয়াছে। ডিসি অফিস ও রাজউকের অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র ভবন নির্মাণের ফলে মন্দিরের পরিবেশ নষ্ট হইতেছে।

ভাড়াটিয়ারা যার যার ভাড়ার ঘর ভেঙ্গে ডিসি ও রাজউকের অনুমোদন ছাড়া এভাবে পরিকল্পনাহীনভাবে ২২/২৩ টি ভবন নির্মাণের ফলে ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশ এবং মন্দিরের উৎসবে ভক্তবৃন্দের মন্দিরে পূর্জাপার্বনে দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভূমিকম্প বা জলাবদ্ধতায় অপরিকল্পিত ভবন ভেঙ্গে পড়লে হাজার হাজার ভক্তের প্রাণহানীও ঘটার সম্ভাবনা আছে। এই সমস্ত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য উক্ত মন্দিরের ভক্তগণ জেলা প্রশাসক ও রাজউকের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।