সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে টেকসই শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়াতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘শান্তির সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মসূচির উচ্চপর্যায়ের ফোরাম’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।
নারীর নেতৃত্বকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান।
তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি ধাপে নারীর পূর্ণাঙ্গ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কিশোরী ও তরুণীদের নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাদের প্রবেশাধিকার এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আরও পড়ুনঃ জাতীয় সংসদে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি গঠন
এ ছাড়া সংঘাত প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা, সামাজিক সংহতি, কমিউনিটির সহনশীলতা এবং শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক এজেন্ডা দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও বাস্তবে শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এমনকি নারীদের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও অনেক সময় তাদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয় না।
শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন আইরিন জুবাইদা খান।
এ সময় তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজে মানবাধিকার, সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান বলেন, শান্তি কেবল সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়; ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করাও টেকসই শান্তির অন্যতম ভিত্তি। আর এ প্রক্রিয়ায় নারীর নেতৃত্ব ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।




