রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে ভারত প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুদ্ধের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন। সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তির পক্ষে ভারতের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই দিনে যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা জানান পুতিন।
কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। যুদ্ধ বন্ধে ভারত তার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নয়াদিল্লি বরাবরই মনে করে, বর্তমান সময় যুদ্ধের জন্য নয় এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে টেকসই সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, তত বেশি প্রাণহানি ও ধ্বংসের আশঙ্কা থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত যদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে দেশটি সে বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
জয়শঙ্কর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসান নিয়েও আলোচনা হয়।
যুদ্ধ বন্ধে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়ায় ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশও একই ধরনের সুস্পষ্ট অবস্থান নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকগুলোতে যুদ্ধ ও শান্তির বিষয় ছাড়াও ভারত-ইউক্রেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। ওষুধ, খাদ্য, কৃষি, সার, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ একাধিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে।


