অনেকেই বলে থাকে ভারতের স্বার্থে ৭১ এ আমাদের ট্রেনিং দিয়েছিল অস্ত্র দিয়েছিল এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল খাবার দিয়েছিল চিকিৎসা দিয়েছিল এবং শেষে আকাশ এবং স্থলে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধও করেছিল,তাতে তাদের স্বার্থ বলতে তারা কিন্তু নতুন কোন সীমানা বা নতুন কোন দেশ দখল করতে পারেনি,আর আমরা একটি দেশ পেতে অসীম উপকার পেয়েছি!
স্বাধীন দেশ পেলাম সেই স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালের দেশের মোট জনসংখ্যার ভেতর হিন্দু এবং আদীবাসী মিলিয়ে ছিল ১৯ শতাংশ,সেই সংখ্যা আজ ২০১৭ তে এসে ঠেকেছে প্রায় ৮ শতাংশে! কোটি কোটি বাংলাদেশী হিন্দু এবং আদিবাসী দেশ ছেড়েছে,তাদের ছিল নাগরিকত্ব তাদের ছিল ভিটে মাটি এবং সবধরনের অধিকার,তারপরেও তারা দেশ ছেড়েছে। তাদের ভেতর খুবই কম সংখ্যক আছে যারা নিজের ইচ্ছেতে দেশ ছেড়ে গিয়েছে বাকি সবাই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে আমাদের অত্যাচারে, হ্যাঁ আমাদের ধর্মীয় ভেদাভেদেজনিত নিকৃষ্ট মানসিক শারীরিক অর্থনৈতিক অত্যাচারে তারা দেশ ছেড়েছে।
আজ মাত্র কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সরকারের বর্বরোচিত হামলাতে আমরা কষ্ট পাচ্ছি থমকে যাচ্ছি, নিজেদের ভূমিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে হলেও তাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছি খাবার দিচ্ছি চিকিৎসা দিচ্ছি। কই এই রোহিঙ্গারা তো কখনো আমাদের সাহায্য করেনি তবুও আমরা তাদের সাহায্য করছি কারণ মানবিক দিক থেকে এই অসহায়দের জন্য পাশে থাকা কর্তব্য তাই আমরা করছি। অথচ এই আমরাই তিলে তিলে এভাবে হত্যা ধর্ষণ লুণ্ঠন দখলের মাধ্যমে কোটি কোটি হিন্দু আদিবাসীদের দেশ ছাড়া করে ওই ভারতে যেতে বাধ্য করেছি যে ভারত আমাদের অসময়ে আমাদের সাহায্যে সবকিছু নিয়ে এগিয়ে এসেছিল!
যারা নিজের মা(দেশ) ছেড়ে ভারতে গিয়েছে তারাই কেবল জানে প্রতিনিয়ত তারা কতটা কষ্ট নিয়ে সেখানে বসবাস করে। তারা জানে মাকে ফেলে অন্য কোথাও থাকাটা কতটা যন্ত্রণার। তারা যে কতটা অভাগা তা কেবল তারাই অনুভব করতে পারে! ভিনদেশী রোহিঙ্গাদের নিয়ে এখন যেমন আমাদের ভেতর মানবতা জাগ্রত হয়েছে কিন্তু কই একইভাবে অত্যাচারিত হয়ে দেশান্তরিত হওয়া নিজ দেশের কোটি মানুষের জন্য কি এই মানবতা সক্রিয় ছিল কিংবা এখনো কি আছে? নেই!
সারাদেশ জুড়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে যেভাবে হাহাকার উঠেছে এটাকে মঙ্গল ভাবেই নিয়েছি, আমি ভাবি এই হাহাকার থেকে এদেশের সবাই শিখুক ধর্ম বিভেদ থেকে কোন মানুষ যখন অত্যাচারিত হয় দেশত্যাগী হয় তখন তারা কতটা নির্মম কষ্ট নিয়ে দেশান্তরী হয়। এই পরিস্থিতিতে সবাই শিখুক হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান নাম দিয়ে ভাগ করার এই প্রথা কেবলই মানুষ হয়ে মানুষকে ধ্বংসের প্রথা। এই দেশের মানুষ শিখুক দেশ হলো মা,এই দেশের প্রতিটি নাগরিক মায়ের সমান আদরের অধিকারের সন্তান। এই দেশের সবার অধিকার সমান, সবার মন আছে শরীর আছে সেই মন শরীরের ইচ্ছে আছে কষ্ট আছে। সবাই শিখুক সবাই একই লাল রক্তের মানুষ, শুধুই মানুষ, সবাই সমান। কারো অধিকার নেই এই দেশের কোন মানুষকে অচ্ছুৎ ভাবার।
দুবাই থেকে ত্রিদিপ দাস




