এখনও জমেনি পশুর হাট

স্টাফ রিপোর্টারঃ পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী বসতে শুরু করেছে পশুর হাট। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। তবে এখনও কেনাবেচা শুরু হয়নি। হাটে নেই ক্রেতার তেমন উপস্থিতি। আগ্রহীরা বাজারে এলেও দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। তবে বিক্রেতারা গরুর দাম বেশি হাঁকছে বলে অভিযোগ হাটে আসা ক্রেতাদের। গরুর ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনই হাটে কেনাবেচা শুরু হয়নি।

রাজধানীবাসীর পশু রাখার স্থান না থাকায় তার একদম শেষ দিকে সাধারণত পশু কিনে থাকেন। এজন্য ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সোম-মঙ্গলবার থেকে বিক্রি বাড়তে পারে। শনিবার বেলা ১১ টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে গরুর হাটে কথা হয় ঝিনাইদহ থেকে আসা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনটা গরু নিয়ে এসেছি। মানুষ এসে শুধু দামদর করে চলে যাচ্ছে। আর শুধু বলছে এখনও সাত দিনের মতো বাকি, দেখা যাক কী হয়। হাটে গরু দেখতে এসেছেন মোহাম্মদ মোস্তফা জালাল খোকন। তিনি সঙ্গে এনেছেন তার ছেলে মেহেদী হাসান অনিককে। প্রতি বছর তারা কোরবানি দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের কাছে মনে হচ্ছে এবার ঈদের গরুর দাম শতকরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি।

শনিবার দুপুর দুইটায় কমলাপুর গরুর হাটের সামনে র‌্যাব-৩ এর অস্থায়ী ক্যাম্পে ঘুমাচ্ছিলেন কুষ্টিয়া থেকে আগত মোহাম্মদ সোলায়মান। র‌্যাব অফিসে তিনি কেন ঘুমাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, স্যার হাট এখনও জমেনি। কোনো কাম কাজ নাই তাই ঘুমাইতেছি। র‌্যাবের লোকজন আসলে এখানে থেকে চলে যাব। তিনি দুইটি গরু নিয়ে এসেছেন। একটি গরুর দাম চাচ্ছেন তিন লাখ টাকা। তবে ওই গরুটি কিনলে একটি বাছুর ফ্রি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে এসেছেন ঠান্ডু মিয়ার ছেলে মিলন মিয়া। তিনি গরু এনেছেন ১১টি। তিনি দাবি করেন, গরু হাটে সেরা গরুটি তার। একটি গরুর দাম চাচ্ছেন ১১ লাখ। তিনি বলেন, গরুটি আমি সাড়ে তিন বছরে ধরে পালছি। যেমন গরু তেমন দাম। হাটে ক্রেতা কেমন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, স্যার তিনদিন ধরে এসেছি, এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। দেখা যাক কী হয়। আবদুর রহমান নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সাব রেজিস্ট্রার কমলাপুর হাটে এসেছেন কোরবানির পশু কেনার জন্য। তিনি প্রায় দুইদিন ধরে হাটে ঘোরাফেরা করছেন। কিন্তু বাজেট বেশি না হওয়ায় তিনি গরু কিনতে পারছেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেখলাম প্রচুর পরিমাণ গরু ভারত ও নেপাল থেকে আসছে। তবুও কেন জানি গরুর দাম এ বছর চড়া।

কমলাপুর হাট কমিটির কর্মচারী মো. দুলাল মিয়া বলেন, আমরা এখনে শুধু গরু ব্যাপারীদের সুযোগ সুবিধা দেখে থাকি। তাদের বাঁশ লাগানো, গোসলের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি দায়িত্ব আমরা আঞ্জাম দিই। তবে মূল বিষয়টি দেখা হয় সাদেক হোসেন খোকার কমিউনিটি সেন্টারে। তিনি বলেন, এবার ব্রাদার্স ইউনিয়ন হাটের ইজার পেয়েছি। আমরা শুধু প্রশাসনিক বিষয়টি দেখি। হাটে গরুর দামের চেয়ে বেশি পরিমাণ হাসিল নেওয়া হচ্ছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসিল নেওয়ার পরে ক্রেতাদের স্লিপ দেওয়া হয়। কোনো দুই নম্বরি করার সুযোগ নেই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।