বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে উভয় দেশ। সম্পর্ক আরও জোরদারে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক যৌথ প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পুনরায় চালু, দেশটির বাড়তে থাকা চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি বৃদ্ধি এবং সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ আমদানি।
ইন্দোনেশিয়ার কফি, শিমসহ বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে এসব পাটের ব্যাগ ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি আলু প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় ঢাকা।
এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের বৃহত্তম হালাল খাদ্য ভোক্তা বাজার হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টের (সেপা) দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে আনিস মাত্তা বলেন, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করতে ইন্দোনেশিয়া আগ্রহী। ঢাকা ও জাকার্তার মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এসব বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন আনিস মাত্তা।
হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে ৫ থেকে ৯ অক্টোবর সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনিস মাত্তা।





