সার সরবরাহে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

সার সরবরাহে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে রোপণ মৌসুমে কৃষকদের কাছে সার সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন ঋণচুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঋণচুক্তির বিষয়টি জানানো হয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে বাংলাদেশ ও ভুটানের পরিচালক জ্যঁ পেম স্বাক্ষর করেন।

জরুরি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তা প্রকল্প

ইআরডি জানিয়েছে, ‘জরুরি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তা প্রকল্প’ বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক এই ঋণ দেবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে অর্থ বিভাগ। এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সমন্বয় করবে।

ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সার সহজলভ্য করার লক্ষ্য

প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো রোপণ মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সার সহজলভ্য করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী করাই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের চাপ মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২৫ বছরের ঋণ, গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর

চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের দেওয়া ৩০ কোটি ডলারের ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। এ সময়ে ঋণের মূল অর্থ পরিশোধে ছাড় থাকবে।

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংক অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো, জ্বালানি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্থাটির অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নতুন এই ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ আরও কার্যকর করা এবং খাদ্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।