× Banner
সর্বশেষ
জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় ২ বিলিয়ন ডলার, চাপ বাড়ছে রিজার্ভে – বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী পরিবেশ রক্ষায় দ্যা নিউজ ডটকমের সড়কের আগাছা পরিষ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ শার্শার গোগায় ট্রাক্টর ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ মালয়েশিয়া সীমান্তে ৬৪১ অবৈধ অভিবাসী আটক, বাংলাদেশি ৭৩ জন আজ ২০ জুলাই (৩ শ্রাবণ) সোমবারে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় অশ্রুসিক্ত বিদায় মেসির, বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ হলো এক কিংবদন্তির অধ্যায় আজ সোমবার (২০ জুলাই) পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে স্পেনের ফুটবল জাদুতে আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ, FIFA বিশ্বকাপ ২০২৬ শিরোপা লা রোজার ঘরে বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার হবে – আইনমন্ত্রী

নারায়ন দেবনাথ

হিন্দুদের মন্দির পাহাড়া দিচ্ছে মুসলিম মোল্লারা

Kishori
হালনাগাদ: রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৪
হিন্দুদের মন্দির পাহাড়া

যারা এক সময় হিন্দুদের মূর্তি ভেঙেছে শতাব্দী প্রাচীন চন্দ্রনাথ মন্দির দখলের চেষ্টা করেছে, দিনাজপুরের কান্ত জিউর মন্দিরের জায়গায় মসজিদ বানানোর চেষ্টা করেছে, শতশত মন্দির অগ্নিসংযোগে পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা এখন সব ভেদাভেদ ভুলে মন্দির রক্ষায় রাত জেগে বিভিন্ন মন্দির পাহারা দিচ্ছে। দেশে-বিদেশে জামাতিদের প্রশংসায় মানুষ পঞ্চমুখ।
এমনকি জামাতের আমির ঢাকায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে হিন্দু নেতাদের ডেকে সভা করে শান্তির বানী দিয়ে বলেছেন,”সংখ্যালঘু বলতে বাংলাদেশে কোন কথা নেই,বাংলাদেশে যে-ই জন্মগ্রহণ করেছে সে-ই বাংলাদেশের নাগরিক”।
জামাতে ইসলামের মূল এজেন্ডা শরিয়তি আইন লাগু করে বাংলাদেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার করা। তারা তাদের সেই অঙ্গীকার থেকে ফিরে এসেছে কিনা তা কিন্তু জামাতের আমির বলেননি। অবশ্য ইসলামি শাসন কায়েম হলে সে দেশে মুশরিক বা বিধর্মীরা থাকতে পারে জিজিয়া কর দিয়ে। সেই জন্যই হিন্দুরা এখন থেকে আর সংখ্যালঘু না হয়ে মুশরিক নামে পরিচিত হবেন কিনা তাও তিনি পরিস্কার করে কিছু বলেননি।
জামাতের আমির সংখ্যালঘু তকমা ঘুচিয়ে বাংলাদেশকে একটি শান্তির নীড় বানানোর প্রতিশ্রুতিতে বাংলাদেশের হিন্দুরা আশ্বস্ত হয়েছিলো। হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনরুজীবিত হবে কেউ মন্দির ভাঙবে না প্রতিমা গুড়িয়ে দেবেনা হিন্দু বাড়িতে আর কেউ অগ্নিসংযোগ করবেনা এরচেয়ে শান্তির খবর হিন্দুদের জন্য আর কিছু হতে পারেনা।
কিন্তু গত ১০দিনে সারাদেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার সাথে মন্দিরে মোল্লাদের পাহাড়া দেয়া আর হিন্দুদের সংখ্যালঘু নাম ঘুচিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতির সাথে কোন মিল নেই। পরিস্থিতি যা ছিলো তাই রয়ে গিয়েছে কোন পরিবর্তন হয়নি। এখানে কয়েকটি ঘটনা তারিখ ও জায়গার নাম উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এবং জামাতের আমির সাহেবকে জানাতে চাই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিরিহ হিন্দুদের বোকা বানাচ্ছেন কেন?
* গত ২৩ আগস্ট রাজশাহীর জেলার বাধা থানার একটি মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে।
*  ২১ আগস্ট পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গায় নাপিত পাড়ায় আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।
* ১৭ আগস্ট খোদ রাজধানী ঢাকায় ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাস হলের মন্দিরে বিগ্রহ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
* ১৬ আগস্ট  নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার যাদবপুর গ্রামে শ্মশান ঘাটের চূড়া এবং দেয়াল ভেঙে দেয়া হয়েছে।
* কুষ্টিয়া কুমারখালি বাটিকামারা দূর্গাবাড়িতে শ্রী শ্রী কালীমায়ের মন্দিরে ভাঙচুর লুটপাট করা হয়েছে।
* সুনামগঞ্জের গ্রামে মৌলানারা মিটিং ডেকে গানবাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একদিন ঠিক একই ভাবে গ্রামে গ্রামে সভা করে ঘোষণা করা হবে এখন থেকে এই গ্রামে আর মূর্তিপূজা করা যাবেনা। যারা সেদিন গানবাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে তাদের চেহারার সাথে মন্দির পাহাড়ায় মোল্লাদের যথেষ্ট মিল রয়েছে।বকলমে তারাই মন্দির ভাঙে আবার তারাই মন্দির পাহাড়া দেয়।
এতদিন হিন্দুদের উপর নির্যাতন মন্দির ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অতিরঞ্জিত বলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টারা বলে আসছেন। এইজন্য তারা ভারতীয় মিডিয়াকে দায়ী করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়া থেকে যে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের উপর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার দায় কি উপদেষ্টারা এড়াতে পারবেন?


এ ক্যটাগরির আরো খবর..