হিন্দুরা কোন নির্দিষ্ট জাতিকে নিয়ে নয়, পৃথিবীর প্রতিটা জীবের মঙ্গল কামনা করে -স্বামী বিবেকানন্দ

অভিজিৎ পান্ডে, দি নিউজ ডেক্সঃ বলিষ্ঠ কন্ঠে যিনি বলে গিয়েছেন । একমাত্র হিন্দুরাই নিজের স্ত্রী ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত নারীদের মা  ও বোনের চোখে দেখে। সংকল্প শক্তি, বিচারের শক্তি, আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অফুরন্ত ভান্ডার স্বামী বিবেকানন্দ। তিনিই আধুনিক ভারতের প্রথম ব্যাক্তি যিনি হিন্দুত্বের ধ্বজা নিয়ে বিশ্ব কাঁপিয়েছিলেন। আজ সেই মহাপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৭ তম জন্মদিন।

স্বামী বিবেকানন্দ ১২ জানুয়ারি ১৮৬৩ সালে, উত্তর কলকাতার শিমুলিয়া গ্রামের বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন | তাঁর বাবার নাম বিশ্বনাথ দত্ত, তিনি কলকাতা হাইকোর্টের একজন আইনজীবি ছিলেন এবং মায়ের নাম ছিলো ভুবনেশ্বরী দেবী| বিবেকানন্দদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিলো মোট ৯ জন | তাঁর ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও বিদেশ ভ্রমণে বিবেকানন্দের সঙ্গী এবং তাঁর ছোট ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন সেইসময়ের একজন বিশিষ্ট সাম্যবাদী নেতা |

যে কোনো দেশের মহাপুরুষ শুধু সেই দেশের জন্য একটা পাওয়ার হাউসের মতো কাজ করে। কিন্তু তিনি দেখিয়েছিলেন ভারতের মহাপুরুষরা শুধু ভারত নয়, পুরো বিশ্বের জন্য পাওয়ার হাউসের কাজ করেন।তিনি ভারতকে সারা বিশ্বে জগৎ গুরুর আসনে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

আজ যদি কোন মহাপুরুষদের পাওয়ার হাউসের খোঁজ করা হয় তাহলে যে নামটি সবথেকে বেশি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছে তা হলো স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda)। স্বামী বিবেকানন্দ সেই ব্যক্তি যার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইতিহাসের বিপ্লবী নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বাঘা যতীনের মতো মহাপুরুষ তৈরি হয়েছে। এমনকি বর্তমান সময়ে যারা ভারতকে নেতৃত্বে দিচ্ছেন তারাও স্বামী বিবেকানন্দের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত।

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার ভাষণে ভাই ও বেহেনও বলে যে উক্তি ব্যাবহার করেন তা স্বামী বিবেকানন্দ থেকেই পাওয়া। ভারত সমাজ যখন অধর্মের অন্ধকারে ডুবে জাত-পাত নিয়ে মেতে উঠেছিল। ঠিক সেই সময় জন্মগ্রহন করেছিলে স্বামী বিবেকানন্দ। ইংরেজদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ভারতীয় যুবকদের রক্তে আগুন লাগিয়ে সাফল্যের রাস্তা দেখিয়ে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।

তিনি যুবকদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, উঠো, জাগো, ততক্ষণে থেমো না যতক্ষণে লক্ষ্য প্রাপ্তি না হয়। এই নীতিকে অবলম্বন করেই বাঘা যতীন, নেতাজি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। পুরো বিশ্ব যখন ভারতকে পিছিয়ে পড়া দেশ মনে করতো, ভারতীয়দের নীচ মনে করতো তখন এই সন্ন্যাসী পুরো বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন ভারত একমাত্র পৃথিবীর পুণ্যভূমি। বিদেশীরা যখন ভারত বা ভারতীয়দের অপমান করতো তখন কিভাবে জবাব দিতে হয় তা স্বামী বিবেকানন্দের থেকে ভালো কেউ পারতেন না।

বাংলায় জন্ম নেওয়া এই হিন্দু সন্ন্যাসী পুরো বিশ্বকে সনাতন ধর্মের শক্তি , ভারতের শক্তি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। আসলে দীর্ঘ সময় ইংরেজ শাসনে থাকার কারণে সমাজ সনাতন ধর্ম ও নিজের গৌরবশালী ইতিহাসকে ভুলে গেছিল। ভারত প্রাচীন সময় থেকে বিশ্বগুরু ছিল এটাই ভারতের সমাজ ভুলে গেছিল। যা স্মরণ করিয়ে দিতে এই হিন্দু সন্ন্যাসীর ভূমিকা ছিল উল্কা পিন্ডের মতো হঠাৎ করে এসে পৃথিবী কাঁপিয়ে দেয়ার মত।

আমেরিকার মতো দেশ যখন ভারতীয়দের অজ্ঞানী, মূর্খ মনে করতো, সেই সময় স্বামী বিবেকানন্দ এর ভাষণ পুরো বিশ্বের ভুল ধরিয়ে দিয়েছিল। হিন্দু ধর্ম ও তার মহানতা নিয়ে স্বামীজি যা বলেছিলেন তা আজও দেশবাসীকে গর্বিতকরে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
লেখক / প্রতিবেদক

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।