জিম্মায় দেওয়ার পর নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে পালন না করায় ‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’ নামের দুটি হাতিকে পুনরায় বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু হাতি দুটির নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাতি দুটি পৃথক দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। পরে জিম্মাগ্রহীতারা নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে পালন করছেন না—এমন তথ্য মন্ত্রীর নজরে আসে।
বিষয়টি জানার পর হাতি দুটির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তাঁর নির্দেশনার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে হাতি দুটিকে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেন।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ‘নিহার কলি’ নামের মাদি হাতিটিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকা থেকে এবং ‘সম্রাট বাহাদুর’ নামের পুরুষ হাতিটিকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হাতি দুটিকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গাজীপুর সাফারি পার্কে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাতি দুটিকে নির্ধারিত শেডে রাখা হবে। পাশাপাশি তাদের শারীরিক অবস্থা ও আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকার বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্যপ্রাণী জিম্মায় দেওয়ার পর নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগের এ পদক্ষেপকে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জিম্মায় থাকা প্রাণীদের যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





