জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শিক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব দায়িত্ব, মেধা ও উদ্যোগ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “শুধু মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা আমলাতান্ত্রিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে কোনো প্রতিষ্ঠান এগোতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানকে নিজ দায়িত্বে উদ্যোগ নিতে হবে এবং কী প্রয়োজন তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা আর চলবে না। ট্রিগার আমিও টানতে জানি, কাজ করা আমাদেরও জানা আছে।”
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কড়া বার্তা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন ও অগ্রাধিকারের বৈষম্য তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কিছুদিন আগে রবীন্দ্রভারতীতে বাংলাদেশ ভবনের জন্য ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার একটি মাত্র জন্মবার্ষিকী আয়োজনের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের নজিরও রয়েছে।
অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত জরুরি বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও ল্যাবরেটরি সংস্কারের অর্থের জন্য মন্ত্রণালয়ের দুয়ারে ধরণা দিতে হচ্ছে! এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে হবে।”
শিক্ষা বাজেটের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “চলতি অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ২ শতাংশের বেশি। তবে বাজেট কেবল বড় হলেই হবে না, বরাদ্দের প্রতিটি টাকা ও পয়সা শিক্ষা খাতের গুণগত মানোন্নয়নে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং বিগত পাঁচ দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত চারটি আলাদা পর্যালোচনা বৈঠক পরিচালনা করেছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০টি কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “অধিভুক্ত ২ হাজার ৩০৭টি কলেজের শ্রেণিকক্ষে ঠিক কী পড়ানো হচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সম্পর্ক কেমন—সেটি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সেন্ট্রাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।”
একই সঙ্গে যেসব কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বিবেচনা না করে মাত্র ১ বা ২ জন শিক্ষার্থীর জন্য অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু রাখা হয়েছে, সেসব অনিয়ম বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।





