মাধ্যমিক পর্যায়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ প্রদানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রাথমিকে অধ্যয়নরত কৃতী শিশুদের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব প্রদান এবং তাদের মৌলিক শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘প্রমাণ থেকে পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার ফল প্রকাশ’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ উপহার দিতে ৬০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ।
তবে পরবর্তী উচ্চশিক্ষার জন্য ল্যাপটপ যতটা জরুরি, তার চেয়ে অনেক বেশি অত্যাবশ্যকীয় বিষয় হলো আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা, কলম, ইরেজার ও শার্পনারের মতো মৌলিক শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা। ওনাদের জন্য যদি ৬০০ কোটি টাকা সংস্থান হতে পারে, তবে প্রাথমিকেও একই পরিমাণ গুরুত্ব দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠানে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের (ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোমলমতি শিশুদের কেবল স্ক্রিন ও ডিভাইসমুখী না করে বইমুখী করার কৌশল বিদ্যালয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে সরকারের দৃশ্যমান পদক্ষেপ জোরদারের দাবি জানান তিনি।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, শিক্ষার সমতা অর্জনে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে দরিদ্র, দুর্গম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাধান্য দিয়ে সময়মতো বাজেট দেওয়া প্রয়োজন। স্রেফ ঢালাও বরাদ্দ না দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির দক্ষতা বাড়িয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী পরিচালক ড. হোসাইন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ও গবেষণাপত্র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর, এডুকেশন স্পেশালিস্ট জয় মিলান মালার এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল।





