“বাংলাদেশের উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নারী স্বাস্থ্য রক্ষা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক এক আলোচনা সভা আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীর স্বাস্থ্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি তার মৌলিক মানবাধিকার। নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া একটি সুস্থ পরিবার, সমাজ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অগ্রযাত্রা নারী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, কক্ষ ৮০৩, বাংলামোটর, ঢাকায়। অনুষ্ঠানে নারীর শারীরিক, মানসিক, প্রজনন ও সামাজিক স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবায় সমান ও মর্যাদাপূর্ণ প্রবেশাধিকার এবং নারী স্বাস্থ্যের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আয়োজনটির মূল লক্ষ্য ছিল নারীর স্বাস্থ্যকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা ও নীতিগত আলোচনা জোরদার করা।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন আমিনুল ইসলাম বকুল, প্রধান নির্বাহী, আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (EDF)। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নারী স্বাস্থ্যের সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সরাসরি সম্পৃক্ত। স্বাস্থ্যসেবা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীদের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন সাবিল আহম্মেদ, আর্থ ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।
আলোচনায় অংশ নেন জাকিয়া শিশির, Convener, Ogojatra Nari Forum; মেহনাজ মালা, Member Secretary, Ogojatra Nari Forum; Professor Dr. SK Nazmul Huda, Chairman, Department of Public Health, IUBAT; Reefat Munnmun, Bangla Language Wing Head, IUB এবং Mental Health First Aid National Trainer; এবং Mosshfek Ara Shimul, Executive Director, SPACE। তাঁরা তাঁদের নির্ধারিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং নারী স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক, বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু হ্রাস ও টিকাদান কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলেও পুষ্টিহীনতা ও রক্তস্বল্পতা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক ট্যাবু, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি, মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলা এবং গ্রামীণ-শহুরে স্বাস্থ্য বৈষম্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বক্তারা নারী ও কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটে পৃথক বরাদ্দ বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ জোরদার, ক্যান্সার স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের পর্যায়ে পুষ্টিকর খাবারে সমান সুযোগ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, মানসিক যত্ন এবং গর্ভকালীন ও প্রসবপরবর্তী সময়ে পরিবারের সক্রিয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভার বক্তারা অভিমত দেন, নারীর স্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসা বা রোগ প্রতিরোধের বিষয় হিসেবে না দেখে অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও সামাজিক ন্যায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে হবে। নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।




