ডানাযুক্ত বাঘ, গ্রিফিন পাখি ও বিশালাকার পিঁপড়ার রহস্যঘেরা মায়াপুরী ছিল ভারত

অভিজিৎ পান্ডে, দি নিউজ ডেস্কঃ গ্রীকদের বর্ণনা অনুযায়ী  ভারতবর্ষ ছিল রহস্যঘেরা এক মায়াপুরী, যেখানে ছিল ডানা যুক্ত চিতা বাঘ, ভয়ংকর গ্রিফিন পাখি আর ছিল বুনো শেয়ালের সমান পিঁপড়া। যারা মাটির সাথে সাথে স্বর্ণ খুঁড়ে আনত। তাদের খননকৃত স্বর্ণসমৃদ্ধ মাটি চুরি করতে গিয়ে পিঁপড়ের হাতে অনেকবার নিহত হয়েছে মানুষেরা।

গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্ব কালে ভারত এসেছিলেন। তিনি গ্রীক সম্রাট সেলিউকাসের দূত হিসেবে রাজধানী পাটালিপুত্রে বছর পাঁচেক ছিলেন। তাঁর রচিত ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থে পাটালিপুত্রের চমৎকার বিবরন আছে।

কিন্তু প্রাচীন বাংলা সম্পর্কে কিছু  অদ্ভুত কাহিনী হাজির করেছেন তার লেখায়। গঙ্গা নদীর পাশাপাশি মেগাস্থেনীস শিলা ( চৌম্বকীয় শক্তি সম্পন্ন নদী, কামরূপ কামাক্ষ্যা ) নামক একটি অদ্ভুত নদীর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এই নদীতে নাকি কিছুই ভাসে না। যা ফেলা হয় তাই পাথরে রূপান্তরিত হয়ে তলিয়ে যায় নদীর অতলে।

আজকের যুগেও অবশ্য বয়স্কদের মুখে এই কথা শোনা যায় যে, কামরূপ কামাক্ষ্যার  ওই নদীতে লোহা আছে এমন কোন নৌকা নদীতে পার হতে গেলে চৌম্বকের টানে ডুবে যায়। সেখানে নাকি বেতের তৈরি ধামা ব্যাবহার হয় লোক পারাপারে। এবং সেখানে উলঙ্গ নারীদের রাজত্ব চলে, মন্ত্র-তন্ত্রের উৎস এই অদ্ভুত নদী ও কামাক্ষ্যা। এখনো যারা তান্ত্রিক কিংবা কবিরাজ আছে তাঁরা এক বাক্যে স্বীকার করে নেয় কামরূপ কামাখ্যাই তাঁদের মন্ত্রের উৎস এবং মন্ত্রে এর দোহাই দেয়া হয়।  যদিও আদিম মানুষের ভেতর এসব ছিল যার সত্যতা আজকের দিনেও দেখতে পাওয়া যায় ডিসকভারি চ্যানেলে।

তার রচনায় বঙ্গীয় বাঘ, হাতি, বানর, কুকুর, কৃষ্ণসার অশ্ব, বিদ্যুৎ মাছ, সাপ, পাখাযুক্ত বৃশ্চিক সহ অনেক প্রাণীর বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তবে বিশদ ভাবে এক অদ্ভুত পিঁপড়ের কথাও এসেছে তার লেখায়।

তার বর্ণনা মতে ভারতবর্ষের পূর্ব দিকের পাহাড়ী এলাকায় (বর্তমানে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, আসাম এলাকা) দরদ নামক এক বিশাল জাতির বাস। সেখানকার ভূ-গর্ভে রয়েছে স্বর্ণখনি এবং এখানেই স্বর্ণখননকারী পিঁপড়ের বাস। এদের আকার বুনো শেয়ালের চেয়ে ছোট নয়। তারা শীতকালে ভূমি খনন করে আর দরদ জাতির লোকেরা কায়দা মত তাদের খননকৃত স্বর্ণসমৃদ্ধ মাটি চুরি করে। কখনো কখোনো সেই সব পিঁপড়ের হাতে সদলবলে নিহত হয় দরদ জাতির অনেকেই।

মজার ব্যাপার হচ্ছে আরব কল্পকাহিনী এবং মহাভারতেও এই রকম পিঁপড়ের উল্লেখ আছে। তবু, প্রথম প্রামাণ্য বর্ণনা হিসেবে তার রচনা ইতিহাস প্রিয়দের আগ্রহের কেন্দ্রে থেকেছে। মেগাস্থেনীসের সমসাময়িক বা অব্যবহিত পরের কিছু গ্রীক লেখক যেমন আরিয়ান, স্ট্রাবো, প্লিনি, আরিয়ন প্রমুখ গ্রিক ঐতিহাসিকগণ গঙ্গাঋদ্ধির অবস্থান সম্পর্কে মেগাস্থিনিসের মতামত প্রাধান্য দিয়েছেন।

গ্রীকদের বিশ্বাস ছিল ভারতবর্ষের এ অঞ্চল রহস্যঘেরা এক মায়াপুরী। যেখানে বাস করে অদ্ভূত আকৃতির কিছু প্রানী, যেখানে সব সময় ঘটে চলে অলৌকিক ঘটনা। এখানে ভয়ংকর গ্রিফিন পাখি খিলানের ওপর বসে আছে। এছাড়াও ডানা যুক্ত চিতা বাঘের কথা যারা তৎকালীন সময় বাস করত ভারত বর্ষে।

ট্যাগ অদ্ভুতঅদ্ভুত পিঁপড়েঅদ্ভূতঅভিজিৎ পান্ডেঅলৌকিকআকৃতিরআরব কল্পকাহিনীআরিয়নআরিয়ানআসামইন্ডিকাউলঙ্গউলঙ্গ নারীদের রাজত্বকামরূপকামাক্ষ্যাকাহিনীকুকুরকৃষ্ণসার অশ্বখাগড়াছড়িগঙ্গাঋদ্ধিরগ্রিফিন পাখিগ্রীকগ্রীক লেখকগ্রীক সম্রাটঘটনাচন্দ্রগুপ্ত মৌর্যচিতাচুরিচৌম্বকীয়জাতিডানা যুক্তডানাযুক্ত বাঘডিসকভারিতান্ত্রিকদরদদরদ জাতিদি নিউজ ডেস্কনারীদেরপর্যটক মেগাস্থিনিসপাখাযুক্ত বৃশ্চিকপাটালিপুত্রপাথরপিঁপড়াপ্রাচীনপ্রানীপ্লিনিবঙ্গীয় বাঘবাঘবানরবান্দরবানবিদ্যুৎ মাছবিশালাকারবুনো শেয়ালভারতবর্ষমহাভারতমাটিমেগাস্থিনিসমেগাস্থেনীস শিলামৌর্য সম্রাটরহস্যঘেরা মায়াপুরীরাজত্বরূপান্তরিতশক্তিসম্পন্ন নদীসাপসেলিউকাসস্ট্রাবোস্বর্ণখননকারী পিঁপড়েস্বর্ণখনিস্বর্ণসমৃদ্ধহাতি

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
সংবাদ প্রতিনিধি

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।