যশোরের শার্শা উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে ২৪ সেপ্টেম্বরের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শার্শা উপজেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী।
প্রকাশিত সংবাদে তাকে জড়িয়ে হামলা, অস্ত্র, গুলিবর্ষণ ও বোমাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল স্থলবন্দরের ৯২৫ শ্রমিক ইউনিয়নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে শহীদ আলী বলেন, পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে একটি পক্ষ তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করে বিভিন্ন সংবাদপত্রে একপাক্ষিক বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শহীদ আলী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে স্থানীয় কতিপয় দুষ্কৃতিকারী মনগড়া, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে বিভিন্ন নামসর্বস্ব অনলাইন পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দিয়েছে। এর মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।’
ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না দাবি করে শহীদ আলী বলেন, তিনি শ্রমিক ইউনিয়নের নিজ দপ্তরে অবস্থানকালে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সামিমুল হক তাকে ফোন করে কন্যাদহ গ্রামে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। একই সঙ্গে নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে পরিদর্শনে এসেছেন এবং তাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
শহীদ আলীর দাবি, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোনো অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। ফলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অস্ত্র, গুলিবর্ষণ ও বোমাবাজির যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, কন্যাদহ বাওড়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। তার অভিযোগ, ওই পক্ষ মৎস্যজীবীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছে এবং জেলেদের মাছ ধরার পথ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এতে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসী।
শহীদ আলী দাবি করেন, কয়েক দিন আগে সহিদুল নামে এক জেলে কন্যাদহ বাওড়ে মাছ ধরতে গেলে তাকে মারধর ও চাঁদা দাবি করে বলে শুনেছি। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বরের মারামারির ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে অহেতুক তাকে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ডকে তিনি সমর্থন করেন না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে তথ্য যাচাই না করে একপাক্ষিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানান শহীদ আলী।





