কুমিল্লার মুরাদনগরে সড়ক উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। একই সঙ্গে সড়কের কাজকে কেন্দ্র করে কেউ চাঁদা বা ঘুষ দাবি করলে তাকে থানায় সোপর্দ অথবা বিষয়টি সরাসরি তাকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্ছারামপুর সড়কের মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর অংশের উন্নয়নকাজের ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে সড়কের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে। মুরাদনগরে কাউকে চাঁদা বা ঘুষ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ এ ধরনের দাবি করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পাশাপাশি বিষয়টি তাকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, “মুরাদনগর হবে চাঁদাবিহীন মুরাদনগর, ঘুষবিহীন মুরাদনগর, দুর্নীতিমুক্ত মুরাদনগর।”
ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুরাদনগরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে নেক হায়াত ও সুস্বাস্থ্য দান করেন এবং সব ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে কায়কোবাদ বলেন, আল্লাহর রহমতে তিনি মামলা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন এবং মুরাদনগরের মানুষ তাকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বকে তিনি জনগণের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জনগণ তাকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন তাদের কাজ করার জন্য। যতদিন আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন তিনি মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান।
মুরাদনগরের সড়ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, কোম্পানিগঞ্জ-নবীনগর সড়ক ছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন উপজেলার অধিকাংশ সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি, অন্যায় ও মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কায়কোবাদ বলেন, তিনি এমন একটি মুরাদনগর চান, যেখানে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর সড়কটি একসময় সরু ও দুর্গম ছিল। পরবর্তী সময়ে এটি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কে উন্নীত করা হয়। বর্তমান ধর্মমন্ত্রীই ওই সড়ক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এবার তার সংস্কারকাজের উদ্বোধনও করলেন।
অনুষ্ঠানে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা, মুরাদনগর উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও নজরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিমুদ্দিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ শরীফ আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল সামাদ।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।





