ঝিকরগাছায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ; সঠিক বিচারের জোর দাবী শিক্ষার্থীদের

ঝিকরগাছায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ; সঠিক বিচারের জোর দাবী শিক্ষার্থীদের

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ২নং মাগুরা ইউনিয়নের জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে চুম্বন, শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তিনি পৌর সদরের কাটাখাল গ্রামের আব্দুর গফুরের ছেলে আব্দুর সবুর। সে ১২ মে ২০১৮ সালে অত্র বিদ্যালয়ের যোগদান করেন এবং আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৯ সালে অবসর গ্রহণ করবেন বলে স্কুল সূত্রে জানা যায়।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, জয়রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর সবুর তারই দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের চিলেকোঠা ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে সুযোগ বুঝে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে চুম্বন, শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা ঘটলেও ভয় ও লজ্জার কারণে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি।

সম্প্রতি কয়েকজন ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানালে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে শিশুদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করার জন্য এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর সবুর গত ২৮ জুন হতে অদ্যবধি পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ ও তদবির শুরু করেছেন বলে এলাকায় বিভিন্ন ভাবে আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক আব্দুর সবুর তাদের চুম্বন করতেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। শুধু তাই নয়, এ বিষয়টি কাউকে জানালে তাদের তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হবে এবং লাশও কেউ খুঁজে পাবে না এমন ভয়ভীতিও দেখানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করে। শিশুদের এমন বক্তব্যে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, বিদ্যালয় এমন একটি স্থান, যেখানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অভিভাবকের উদ্বিগ্ন থাকার কথা নয়। কিন্তু এমন অভিযোগের পর অনেকেই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা গাফিলতি করা হলে প্রকৃত বিচার বাধাগ্রস্ত হবে।

এছাড়া এলাকায় আরও অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর সবুর অতীতে ঝিকরগাছা পৌরসভার কাটাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালেও একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তখনও তাকে তাৎক্ষনিক ভাবে বদলী করা হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর সবুর বলেন, আমি আদর করে চুমু খেয়েছিলাম। তবে আমার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা ষড়যন্ত্র করছেন। কাটাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় একই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই সময়ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান বলেন, গত ২ জুলাই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পর ৭ জুলাই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

তবে গতকাল (সোমবাার) অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগ তুলে নিতে আমার নিকট এসেছিলো। কিন্তু তাদের অভিযোগ তুলে নেওয়ার আবেদন যথার্থ না হওয়ায় আমি তাদের কে ফিরিয়ে দিয়েছি।

এখন এলাকার সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন, তাহলে ক্ষমতাধারী শিক্ষকের ভয়ে কি অভিযোগ তুলে নিতে চাচ্ছেন অভিভাবক মহল ? নাকি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
সংবাদ প্রতিনিধি

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।