এশীয় সহযোগিতা বাড়াতে তিন দফা প্রস্তাব পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের

এশীয় সহযোগিতা বাড়াতে তিন দফা প্রস্তাব পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের
এশীয় সহযোগিতা বাড়াতে তিন দফা প্রস্তাব পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে তিনটি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

ফলাফলভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন, অংশীজনদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া’ (সিআইসিএ)-এর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিবেশনে হুমায়ুন কবির এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সিআইসিএকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর ও ফলাফলকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সিআইসিএকে কার্যকর আঞ্চলিক সংগঠনে রূপান্তরের আহ্বান

সিআইসিএকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংগঠনে রূপান্তরের উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটির সুস্পষ্ট আইনি মর্যাদা, শক্তিশালী সচিবালয়, টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন।

তাঁর প্রস্তাবিত প্রথম উদ্যোগে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থবহ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও অনুসরণব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব দেন তিনি।

দ্বিতীয় উদ্যোগ হিসেবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও বেশি সরাসরি সভা, বৈঠক ও অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা সম্ভব।

তৃতীয় উদ্যোগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

আইসিটি ও এআই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল সহযোগিতা

তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি একটি নিরাপদ, উন্মুক্ত ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, এশিয়ার মানুষের জন্য দৃশ্যমান সুফল বয়ে আনবে—এমন বাস্তবমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিআইসিএ সম্মেলনে নতুন সদস্য লাওস

আজারবাইজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিআইসিএর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য—‘একটি শক্তিশালী সিআইসিএ: এশিয়ায় সংযোগ, ডিজিটালাইজেশন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি’। এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্ব এবারের প্রতিপাদ্যে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্মেলনে লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (লাওস) সিআইসিএর ২৯তম সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে। এর ফলে এশিয়াভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক ফোরামের সদস্যসংখ্যা ও কার্যপরিধি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে সিআইসিএর সভাপতিত্বে আজারবাইজানের দায়িত্ব পালনে সমর্থন জানানো হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিআইসিএ এশিয়ায় শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করা একটি বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।