মান্দায় মহুরীরকে বিশ্বাস করে ৫ লাখ টাকা প্রতারণার শিকার হলেন যুবক

মান্দায় মহুরীরকে বিশ্বাস করে ৫ লাখ টাকা প্রতারণার শিকার হলেন যুবক
মান্দায় মহুরীরকে বিশ্বাস করে ৫ লাখ টাকা প্রতারণার শিকার হলেন যুবক
নওগাঁর মান্দায় জমি বন্ধকের চুক্তি ভঙ্গ করে জালিয়াতির মাধ্যমে গোপনে বিক্রি, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতারণার প্রতিবাদ করায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হেনস্থা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মো. খোরশেদ আলী নামে এক দলিল লেখকের (মুহুরী) বিরুদ্ধে। জমি ও পাওনা টাকা উভয়ই হারিয়ে বর্তমানে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী মো. খোরশেদ আলম।
ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার শামুকখোল মৌজায় (জেএল নং ১৩২, আরএস খতিয়ান নং ১৩৯/১৪০, দাগ নং ২৮৪)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার মৃত মকছেদ আলীর ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (৪৭) তাঁর নিজ দখলীয় ৮ শতক জমি মো. খোরশেদ আলম (৩৪, পিতা: মো. মুনসুর রহমান বাবু)-এর নিকট ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ৮ মাসের জন্য বন্ধক প্রদান করেন। গত ০২/১২/২০২৫ ইং তারিখে মান্দা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সদস্য মো. খোরশেদ আলী (মুহুরী) এই বন্ধকি চুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেন এবং তিনি নিজেই ঘটনার মূল সাক্ষী হন।
চুক্তির মেয়াদ ৮ মাস নির্ধারণ করা হলেও অভিযোগ উঠেছে, বন্ধকের মাত্র ৪ মাসের মাথায় গত ২১/০৪/২০২০ ইং তারিখে দলিল লেখক খোরশেদ আলীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে ও জালিয়াতির মাধ্যমে মূল পাওনাদারকে অন্ধকারে রেখে জমিটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে গোপনে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।
খবরের বিস্তারিত অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বন্ধকি জমির ৪৯৫,০০০/- (চার লাখ ৯৫ হাজার) টাকার দেনা-পাওনা মীমাংসা ও সমাধানের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়েছিলেন খোরশেদ মুহুরী।
অথচ পাওনাদারকে কিছু না জানিয়ে জমিটি বিক্রি করে দেওয়ার পরও তিনি চরম প্রতারণার আশ্রয় নেন। জমি বিক্রির সত্যতা গোপন রেখে তিনি মূল পাওনাদারের কাছ থেকে আরও ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা গ্রহণ করেন এবং গত ১৮/০৯/২০২৬ ইং তারিখে পুনরায় একটি বায়নানামা দলিল তৈরি করে দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম বুঝতে পারেন তিনি একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্রের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন।
টাকা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে বক্তব্য ও তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিযুক্ত দলিল লেখক খোরশেদ আলীর কাছে যান। তবে তিনি কোনো প্রশ্নের তোয়াক্কা না করে এবং কোনো বক্তব্য না দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে খোরশেদ মুহুরী ও তাঁর ছেলে সংঘবদ্ধ হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারাত্মকভাবে হেনস্থা করেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা  সাংবাদিকদের ওপর হামলা, বুম  ও মোবাইল ফেলে দেয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনে এমন বাধা ও সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর আকুতি ও শাস্তির দাবি জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী মো. খোরশেদ আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
“খোরশেদ মুহুরী নিজেই বন্ধকের চুক্তি করালেন, আবার আমার পাওনা মেটানোর দায়িত্ব নিয়ে গোপনে জমি বিক্রি করে দিলেন।
আমাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আরও টাকা নিয়ে নতুন করে বায়না করে প্রতারণা করলেন। আমি এখন নিঃস্ব ও দিশেহারা। আমি আমার কষ্টের উপার্জিত টাকা ফেরত চাই এবং এই প্রতারক চক্রের কঠিন শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে মান্দার সচেতন মহল ও এলাকাবাসী মনে করছেন, সম্পূর্ণ ঘটনায় দলিল লেখক খোরশেদ আলী সরাসরি জড়িত। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে তাঁরা অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত মুহুরীসহ জালিয়াতি চক্রের সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আরিফ হোসেন

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।