শনিবার (১৫ আগস্ট) বাসসকে তিনি বলেন, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জাতীয় গ্রিডে আরও বেশি গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা মোট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং পুনঃগ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে আসছে ৮২৮ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে বর্তমানে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে মোট চাহিদার প্রায় ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
আরও পড়ুনঃ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৬ অঞ্চলে নৌ হুঁশিয়ারি
দেশীয় গ্যাস সরবরাহে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে শেভরন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। এছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ৪৭৭, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) ১৩৯, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) ৯৬ এবং টাল্লো ৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।
সম্প্রতি কারিগরি ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। তবে এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট গ্রুপ পরিচালিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) পুনরায় চালু হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ আবারও বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টার্মিনালটি বন্ধ রাখতে হবে। এ কার্যক্রম শেষ হলে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ আজ কিশোরগঞ্জ সফরে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনসহ একাধিক কর্মসূচি
এদিকে, জাতীয় গ্যাস গ্রিডে আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ বর্তমানে বেড়ে ৮২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি গ্যাস আসছে মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে।
আরও পড়ুনঃ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত ১১
গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানি ও পুনঃগ্যাসীকরণ কার্যক্রম সমন্বয় করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।
সরকারের লক্ষ্য, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখা। তবে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি পূরণ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




