লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত ১১

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত ১১
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলা

লেবাননে ইসরাইলি হামলা. লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

লেবাননের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুনে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটি ছিল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অন্যতম বড় ধরনের ইসরাইলি হামলা। নাবাতিয়েহ জেলার আনসার শহরের উপকণ্ঠে শনিবার ভোরে একটি বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হলে সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। পরে দেইর আল-জাহরানি এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া যায়।

আরও  পড়ুনঃ জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ২,৪৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট, ঘাটতি ১,৩৫৭

ইসরাইলের দাবি, হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের তিন সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আলী আল-তাহের এলাকায় হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার আলী সামির আল-হাজ হাসানকে লক্ষ্য করে একটি হামলা চালানো হয়।

আইডিএফের দাবি, ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা একটি সামরিক স্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা, ৬ অঞ্চলে নৌ হুঁশিয়ারি

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তাদের বক্তব্য, আনসার এলাকায় নিহত ব্যক্তিরা কোনো সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, হামলা এবং যুদ্ধবিরতি কাঠামোর ধারাবাহিক লঙ্ঘন আসন্ন আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির অভিযোগ, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির কাঠামো দুর্বল করে লেবাননের ওপর নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ আজ কিশোরগঞ্জ সফরে প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনসহ একাধিক কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধও অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের অবস্থান, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। হিজবুল্লাহ এই শর্তকে ‘আত্মসমর্পণের শামিল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর আগে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত থাকে। লেবাননের বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, সংঘাতের সাম্প্রতিক পর্যায়ে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে প্রাণহানি ও পাল্টাপাল্টি হুমকির ঘটনায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।