বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। পর্যটন বিষয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় দেশটি।
‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়।
সারাহ কুক বলেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক খাতকে একসঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখতে চায়। এর মাধ্যমে দুই দেশই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এতে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিমান চলাচল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
‘মানা বে’ ও ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ’ (আইএইচজি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, তৈরি পোশাক, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি পর্যটন ও আতিথেয়তাকেও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, খাবার ও আতিথেয়তার কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সারাহ কুক সিলেটের চা-বাগান, কক্সবাজার এবং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব স্থান আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা রাখে।
তিনি বলেন, পর্যটন খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি দেশের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ।
বিমান চলাচলের সঙ্গে পর্যটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, পর্যটকের অভিজ্ঞতা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নয়, বরং বিমানের টিকিট কেনা, বিমানবন্দরে পৌঁছানো ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় থেকেই শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে বিনিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবার মান বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মানা বে ওয়াটার পার্ক এবং সম্প্রতি চালু হওয়া ৯৫ কক্ষের মানা বে রিসোর্ট নির্মাণে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে।
মানা বে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাশিন হাসান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আস্থার প্রতিফলন এই বিনিয়োগ।
আইএইচজির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক আশওয়ানি নায়ার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠান সম্ভাবনা দেখছে। বাংলাদেশে আইএইচজির দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
সারাহ কুক আরও বলেন, পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতার ব্যবহার নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পর্যটন, আতিথেয়তা ও বিমান চলাচল খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বড় সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।





