যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় নিয়ে আসা ২০০ ক্যারেট কমলার একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বন্দরের ৩১ নম্বর কাঁচামাল মাঠ থেকে যশোর-জ-১১-১৩৩৬ নম্বর ট্রাকে থাকা কমলার চালানটি আটক করা হয়। তবে চালানটি আটকের ঘটনা নিয়ে বন্দরে নিয়োজিত আনসার ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গাজী ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ‘ফ্রেশ মালটা’ ঘোষণায় দুটি ট্রাক পণ্য আমদানি করে। এ চালানের বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) নম্বর সি-৬৬২৭৮ এবং মেনিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০১০০৫৯৭৮৫। চালান খালাসের দায়িত্বে ছিল আমদানিকারকের নিজস্ব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট গাজী এক্সপ্রেস।
কাস্টমসের দাবি, চালানে ঘোষিত মালটার সঙ্গে কোনো ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) ছাড়াই অতিরিক্ত ২০০ ক্যারেট কমলা আনা হয়। যার ওজন প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কেজি। প্রতি কেজি কমলার শুল্ক-কর ১২২ টাকা হিসাবে এতে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ৭০০ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে।
তবে বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, কাস্টমসের পরীক্ষণের সময় ভারতীয় ট্রাকে অতিরিক্ত কমলার চালানটি ধরা পড়েনি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দরে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা বাংলা ট্রাকে লোড করা কমলাসহ গাড়িটি আটক করেন। পরে চালানটি বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল বন্দরের নিয়োজিত আনসারের পিসি আরমান আলী বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিথ্যা ঘোষণায় আনা কমলাসহ ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে সেটি বন্দরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমীন বলেন, ‘আনসারের হাতে আটক পণ্যচালানটি কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ঘোষণার অতিরিক্ত কমলা আগে থেকেই ভারতীয় ট্রাক থেকে নামিয়ে ছোট একটি বাংলাদেশি ট্রাকে লোড করা হয়েছিল। পরে সুযোগ বুঝে তা বন্দর থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা বন্দরের পণ্য পরীক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, বন্দরের গেট ডিভিশনে কাস্টমসের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় মিথ্যা ঘোষণা বা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আনা-নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্য পরীক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘোষণার অতিরিক্ত ও ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) বিহীন একটি কমলার চালান জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।’





