সমাজে অপরাধের প্রবণতা কমাতে শুধু আইন, আদালত কিংবা চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মানুষের মনোজগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই কক্ষে আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, সমাজে ছোটখাটো বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়, এসব সমস্যার সমাধানে কেবল আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা কিংবা চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে না পারলে অপরাধ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জন কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে এ খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উদ্যোগ সফল করতে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপিকা তাহমিনা আক্তার।
এ ছাড়া সেমিনারে খ্যাতনামা চিকিৎসক, গবেষক, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁরা মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।





