ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

শারদীয় দুর্গাপূজার বাণীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান

দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ কিংবা সম্প্রদায়গত পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রসহ সবার দায়িত্ব।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার এবং উন্নয়নেও সরকার সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর এবং সমন্বিত উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল এবং উৎসবের আবহে প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের মনে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠাই দুর্গোৎসবের মূল বার্তা।

তিনি আরও বলেন, অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান বহন করে এ উৎসব। আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

রাষ্ট্রপতির মতে, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্য, সমাজ ও সংস্কৃতি। এ উৎসব সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে ও নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিটি ধর্ম মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। তাই সবাইকে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে কাজ করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যাতে বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের সবার।

তিনি আরও আহ্বান জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ যেন সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি কামনা করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে। পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।